বাংলাদেশ কি তবে গৃহযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? সরাসরি হ্যাঁ বলা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি কিন্তু সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর ক্ষেত্র কিন্তু অনেকদিন আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল। প্রথমত তিনটি আন্তর্জাতিকস্তরের গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন স্বীকৃতি পাবে না। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের একটা সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে। তিনিও একই কথা বলেছেন। তবে একটু ঘুরিয়ে হাসিনা-পুত্র বলেন, দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেই হবে না। আওয়ামী লীগ যাতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে, তার সময় দেওয়া দরকার।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর জয় একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি কার্যত তদারকি সরকারকে হুমকি দিয়ে বসেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে দল ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবে। জয় আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন জারি আছে সেই আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেবে যদি না দলের ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর বদল হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় যে কী হতে পারে, সেটাও হাসিনা-পুত্র আগাম জানিয়ে দেন। ওই গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি কী রায় হবে। তারা তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং মৃত্যুদণ্ড দেবে। কিন্তু আমার মা ভারতে রয়েছেন। সে দেশ মাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে। ’ হাসিনাপুত্র জানিয়েছেন, দেশীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-য়ের রায় অবসম্ভাবী। এই রায়ের পিছনে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই মাকে এই আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে।
হাসিনা-পুত্র জানিয়ে দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা কোনও আপিল করবে না। যতক্ষণ না একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে এবং সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে। তদারকি সরকারের জন্য তাঁর বার্তা, ‘আমরা আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হতে দেব না। সামনে আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। আমাদের যা কিছু করার আমরা সেটা করব। ’
শুরুতেই কেন বলা হয়েছিল যে বাংলাদেশে আক্ষরিক অর্থেই গৃহযুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, এবার তা স্পষ্ট হল। তদারকি সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। অপর দিকে আওয়ামী লীগও আরও স্পষ্ট করে দিল তাদের অবস্থান। তদারকি সরকার কোনওভাবেই আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেবে না। আর হাসিনা, তাঁর পুত্র এবং দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও সেটা বুঝে গিয়েছেন। তাই, তাদের আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ঢাকা লকডাউন এবং শাটডাউন কর্মসূচি থেকে সেটা পরিষ্কার। আগামীদিনে তাদের আন্দোলনের রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে দলের মধ্যে শুরু হয়েছে চর্চা। তদারকি সরকারকে যে তারা এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না, সেটা পরিষ্কার। অপর দিকে, ইউনূস এখন চেষ্টা করছেন আওয়ামী-বিরোধী দলগুলিকে আরও কাছে পাওয়ার। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি রীতিমতো তপ্ত। বলা যেতে পারে, গোটা দেশ কার্যত বারুদের স্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু একটা দেশলাই কাঠি জ্বালালেই হল। সেটা যে কোনও পক্ষ থেকেই হতে পারে। সরকারের তরফ থেকে হতে পারে অথবা আওয়ামী লীগের তরফ থেকেও হতে পারে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post