আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে তা লক্ষ্য রেখেছে ভারত। এই রায়ের পর আলোচনা চলছে, যে ভারত কী বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেবে শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত যদি না ফিরিয়ে দেয় তাহলে কী ভারত আর বাংলাদেশের মাঝের সম্পর্ক ঠিক হতে পারে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তারা রায়ে সন্তুষ্ট। হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করা হলে শান্তি পাবো। তিনি হুঙ্কারের সুরে আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে এক মাসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগের দিন অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার মা তখনই দেশে ফিরবে যখন দেশে আওয়ামীলীগের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচনের মাধ্যমে একটা নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে। তখনই তারা দেশে ফিরে তার মায়ের বিচারের আপিল করবেন। তার আগে তাদের এই বিচার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই। বর্তমানে তদারকি সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন জারি আছে সেই আন্দোলন আরও তীব্র আকার নেবে যদি না দলের ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর বদল হয়। আমরা জানি কী রায় হবে। তারা তাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং মৃত্যুদণ্ড দেবে। কিন্তু আমার মা ভারতে রয়েছেন। সে দেশ মাকে পূর্ণ নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং একজন রাষ্ট্র প্রধানের মর্যাদায় রেখেছে। দেশীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের রায় অবসম্ভাবী। এই রায়ের পিছনে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই মাকে এই আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে।
শেখ হাসিনা এই আদালতকে ক্যাঙ্গারু কোর্ট এবং তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমান সম্বনয়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য তার পলিটিক্যাল এসাসিনেশন তাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যা করার জন্যই গঠিত আদালত বলে চিহ্নিত করেছেন। কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারগুলিতে তিনি বলেইছিলেন, যে তিনি তখনই দেশে ফিরবেন যখন দেশে একটি নির্বাচিত সরকার থাকবে এবং বাংলাদেশের সংবিধান পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হবে। আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে কোনও নির্বাচন স্বীকৃতি পাবে না।
কিন্তু ভারত কি হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবার অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে বাংলাদেশ সরকার একটি নোট ভার্বাল পাঠিয়েছিল। প্রত্যর্পন চুক্তি রয়েছে ভারত বাংলাদেশের সে কারণে সোমবার রায় ঘোষণার পর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এই রায়কে ঐতিহাসিক রায় হিসেবে বর্ননা করে বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতকে বাংলাদেশ আবারও চিঠি দেবে। সেই চিঠিটি হতে হবে আইনি ভাষায় ও আইনিভাবে সম্পূর্ণ বিবরণ লিপিবদ্ধ করতে হবে কী কী যুক্তি দিয়ে শেখ হাসিনাকে ভারতের বাংলাদেশে প্রত্যর্পন করা উচিত বলে বাংলাদেশ সরকার মনে করছে।
ভারত বরাবর বলে এসেছে যে শেখ হাসিনাকে তার বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসেনি। শেখ হাসিনা ভারতে এসেছেন সামরিক বিমানে করে। শেখ হাসিনা ভারতে আসার আগে বাংলাদেশে সরকার ও সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ স্তর থেকে ভারতের আকাশ সীমায় যাতে বাংলাদেশের সেনাবিমানটি ঢুকতে দেওয়া হয় সেই অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।
সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের নজরে রয়েছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারত। একইসঙ্গে নয়াদিল্লি চায়, শান্তি, গণতন্ত্র এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক বাংলাদেশে। সেই লক্ষ্যে নয়াদিল্লি সব পক্ষের সঙ্গে সুষ্ঠু ভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলবে বলেও জানিয়েছে ভারত সরকার।
নয়াদিল্লির জারি করা সংক্ষিপ্ত ও সতর্ক বিবৃতি কূটনৈতিক মহলে যথেষ্টই সাড়া ফেলেছে। ছোট্ট এই বিবৃতিতে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের চিন্তাভাবনা। সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে নিয়ে নয়া দিল্লির ভাবনা। চলতি বছর অক্টোবর মাসে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছিল ভারত।












Discussion about this post