আচ্ছা, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারউজ্জামান কোথায়? কবে তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল? পদ্মাপারে এই কদিনে কতকিছু ঘটে গেল। কিন্তু না সেনাপ্রধান ওয়াকার কিছু বলেছেন, না বাহিনীর তরফ থেকে কিছু বলা হয়েছে। তাদের তো এটাই বলার মোক্ষম সময়। কারণ, হাসিনাকে তো বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। দিয়েছে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। একই শাস্তি দেওয়া হয়েছে তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। দুইজনের একজনও বাংলাদেশে নেই। হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রয়েছেন কলকাতায়। তিনি কলকাতার একটি বিলাশবহুল এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। তাঁর সম্পর্কে এ সব শোনা কোথা। কোনও পাকাপোক্ত প্রমাণ এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার বা উত্তরপাড়া কিন্তু আশ্চর্যরকম শান্ত। তবে সেখানে কি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পথ প্রশস্ত করার একটা নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। নাকি সেনাপ্রধান লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না।
প্রথমটার থেকে দ্বিতীয়টার সম্ভবনা প্রবল। কারণ, তিনি তো হাসিনার সঙ্গে গদ্দারি করেছেন। আমরা সকলেই জানি যে সেনাপ্রধান ওয়াকার মুজিব পরিবারের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। হাসিনা তাঁর হাতে বাহিনীর ব্যাটন তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতার লোভ এতটা যে তিনি আচমকা জার্সি বদল করে বাংলাদেশের কুর্সিতে বদল ঘটালেন। বসালেন এমন একজনকে যিনি দায়িত্বের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ডুবিয়েছেন। এককথায় গোটা দেশডুবিয়ে ছেড়েছেন। এখন নিজে কীভাবে সেই জল থেকে উঠবেন, তার রাস্তা খুঁজছেন।
ফেরা যাক সেনাপ্রধান ওয়াকারের কথায়। গত ৫ অগাস্ট থেকে বাংলাদেশের বুকে যে সব ঘটনা ঘটেছে, তার পিছনে সেনাবাহিনীর মদত যে ছিল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। দীর্ঘ কয়েক মাস তারা রাস্তায় ছিল রীতিমতো আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। তারপরেও দেশে আইনের শাসন ছিল না। শাসন ছিল দুর্বৃত্ত আর রাজাকারদের। নির্বিবাদে তাণ্ডব চালিয়ে গেল রাজাকারের দল? বেশি দূর যাওয়ার দরকার নেই। সোমবার আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে দিনভর বাংলাদেশের নানা প্রান্তে অশান্তি হয়েছে। এমনকী ধানমন্ডির বাড়ি যাতে গুঁড়িয়ে ফেলা হয়, তারও চেষ্টা চলে। বাড়ি একেবারে ধুলোয় মিশে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে সেটা বুঝতে পেরে পুলিশ ও সেনা সেখানে যায়। যাওয়ার উদ্দেশ্য যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য পাপস্খলন করা। ওয়াকার পাপেরস্তুপে চাপা পড়েছেন। এক আধটা পাপ নয়, ডজন ডজন পাপ। হাসিনার সঙ্গে বেইমানি করেছেন, নিজের বাহিনীর সঙ্গে বেইমানি করেছেন। সর্বোপরি দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
এখন তিনি পড়েছেন বেকায়দায়। কারণ, আওয়ামী লীগ যে ক্ষমতায় ফিরছে সেটা বাকিদের মতো তিনিও বুঝতে পেরেছেন। কী করবেন সেনাপ্রধান? ইউনূসের পায়ে পড়বেন না হাসিনার পায়ে পড়বেন? বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলের একাংশ মনে করছে হাসিনার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থানা ছাড়া তাঁর আর কোনও রাস্তা নেই। সেটা প্রকাশ্যে চাইতে পারেন, হাসিনার সঙ্গে ফোনে চাইতে পারেন অথবা বাহিনীর তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে ভুল স্বীকার করতে পারেন। কোন পথে হাটবেন সেনাপ্রধান সেটা এখন দেখার বিষয়।
এদিকে আবার সেনার পাশে দাঁড়িয়েছেন ইউনূস। বলেছেন, জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের সময় বাহিনী যা করেছে সেটা একদম সঠিক কাজ। বাহিনী কঠোর হাতে সেই সময় পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে না পারলে দেশ আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নিত। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াল? দুইয়ে দুইয়ে চার। ইউনূস ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সেনাবাহিনীর জয়গান গাইছেন। আর বাহিনীর বড় কর্তাটি মনে মনে চাইছে যেমন চলছে তেমন চলুক। তাতে দুইয়ের লাভ।
বাহিনীকে নিয়ে ইউনূসের বিবৃতি মনে করায় বাংলার এই প্রবাদ – সুরির সাক্ষী মাতাল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post