যখন সারাদেশ ব্যস্ত ছিল শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা নিয়ে। ঠিক সেদিন অতি গোপনে দেশের একটি গুরুত্বপুর্ণ চুক্তি হয়ে গেল। যা প্রায় টেরই পেল না বাংলাদেশের জনগণ। চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এখন প্রশ্ন, কেন শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার দিন এই চুক্তি করা হল? কারণ সেদিন যে সমস্ত গণমাধ্যম, সাধারণ জনগণ হাসিনার সাজা ঘোষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, সেটা পরিষ্কার। তবে কি চুক্তিতে এমন কিছু করা হয়েছে, যেটা নিয়ে দেশে বিরোধীতা তৈরি হতে পারে? দেশের ক্ষতি হতে পারে, এমন প্রশ্নও উঠছে। কোনও নির্বাচিত সরকার হলে রাজনৈতিক স্বার্থে এই কাজ করলেও করতে পারে। কিন্তু একটি নিরপেক্ষ সরকার কেন এটি করল?
গত বছর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার দেশের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি বিষয় খবরের শিরোনামে আসে। একটি হল সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। অন্যটি বন্দর এবং আর একটি করিডোর হিসাবে ব্যবহার করতে দেওয়া বাংলাদেশকে। যা ঘিরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের দূরত্ব তৈরি হয়। যমুনাভবন ও ক্যান্টনমেন্টের সংঘাত খবরের শিরোনামে আসে একাধিকবার। এদিকে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি, তারাও এই বিষয়ে বিরোধিতা করে। তবে শেষ রক্ষা বোধহয় হল না। অন্তত যে খবর সামনে এসেছে, তাতে এটাই মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্প এবং ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার বিষয়টির সামনে আসার পর এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি তৈরি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সূত্রের খবর, চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনাল এবং পানগাঁও অভ্যন্তরীণ অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনালে কাজ করবে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ। চুক্তি অনুসারে, ললদিয়া টার্মিনালে ত্রিশ বছর এবং পানগাঁওয়ে ২২ বছর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যেদিন প্রত্যেকে ব্যস্ত ছিলেন, সেদিন অতি গোপনে কেন এই সিদ্ধান্ত নিল অন্তবর্তীকালীন সরকার? এত তাড়াহুড়োর কি কোনও দরকার ছিল? যদিও পরে অন্তবর্তীকালীন সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এবং স্পর্শকাতর এই সিদ্ধান্ত নিতে কেন এত তাড়াহুড়ো করল সরকার, সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশের অন্দরে বহু মানুষ। এমনকি এই প্রশ্নও উঠছে, বন্দর নিয়ে পরবর্তীকালে কোনও সমস্যা তৈরি হলে, অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পর জবাবদিহি কে করবে? এখনও বাংলাদেশের সব সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়টি নিয়ে তুলে ধরা হয়নি। গুটি কয়েক সংবাদমাধ্যম এই নিয়ে প্রথমে খবর করে। তবে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে অনেক মানুষের মধ্যে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post