মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দন্ডিত করেছে ঢাকার ট্রাইবুনাল। যা নিয়ে দেশে বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একই অপরাধে ও মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। দলের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আসা এই রায় আগেভাগেই টের পেয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। গতবছর এক গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের প্রায় শতাধিক নেতা এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ছাড়া। তাদের বেশিরভাগই ভারতে অবস্থান করছেন। এরমধ্যে দুই সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খানও ভারতের আশ্রয়ে। সোমবার ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল যখন রায় ঘোষণা করছে, তখন ঢাকা থেকে দূরে ভারতের কলকাতা শহরে এক গোপন আস্তানায় মিলিত হয়েছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। সেখানেই তাঁরা ঠিক করে নেন পরবর্তী পদক্ষেপ।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, এটি বাংলাদেশের একটি ক্যাঙ্গারু আদালতের ন্যায়বিচারের নামে একটি প্রহসন। আদালতের কোনও আইনি বৈধতা নেই। এই মামলাটি মিথ্যা অভিযোগের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে যার লক্ষ্য আওয়ামী লীগ এবং আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া। তিনি আরও বলেন, আমরা আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান করেছি এবং এতে আমরা অবাক হইনি। কলকাতায় এক গোপন জায়গায় বৈঠক করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুসারে জানা গিয়েছে, হাসিনার সাজা ঘোষণার দিন অর্থাৎ গত সোমবার বেলার দিকে এই গোপন বৈঠক হয় কলকাতায়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব। আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের রায় যে হাসিনার বিপক্ষে যাবে, তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি হতে চলেছে এটা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আগেভাগেই অনুমান করেছিলেন। ফলে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বলেই জানা গিয়েছে।
যেমন সোমবার কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, গত বছর ৫ আগস্টের পরে এটি পূর্বনির্ধারিতই ছিল। মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনব্যবস্থা হাসিনার রাজনৈতিক বহিষ্কারের ব্যাপারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাঁরা এবার বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করবে। ফলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা এই বিচার এবং রায়কে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিষয়ে হাসিনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের রাজনীতি বলেই মনে করছেন। আওয়ামী লীগের দাবি, তাঁরা যে যে আইনজীবীদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভিযুক্তদের হয়ে সাওয়াল করার জন্য, তাঁদের কাউকেই আদালতে হাজির হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনার আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও কেঁড়ে নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় কমিটির নেতার দাবি, এই আদালতের গঠন নিয়েও প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যদিও একই অভিযোগ বেশ কয়েকবার করেছেন খোদ শেখ হাসিনা। কলকাতার বৈঠকেই ঠিক হয়েছে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত। এক কেন্দ্রীয় নেতার দাবি, আমরা আমাদের নেত্রীর সাথে কথা বলব এবং শীঘ্রই যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার জন্য তার অনুমতি নেব। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এটি একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আন্দোলন হবে।
এমনকি তাঁরা ঠিক করেছেন, এবার মার্চ টু যমুনা কর্মসূচির জন্য ঝাঁপাতে চান। তাঁরা এই প্রস্তাব দলনেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছেন। এবং নেত্রী শেখ হাসিনা যদি গ্রীন সিগন্যাল দেন, তাহলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব খুব শীঘ্রই মার্চ টু যমুনা কর্মসূচির ঘোষণা দেবে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা এখন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন ও কার্যালয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, গত বছর ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন বঙ্গভবন অভিমুখী অভিযান ছিল আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার। এবার মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন অভিমুখে অভিযান করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। তবে কি বাংলাদেশে খেলা ঘুরছে? উত্তর খুব শীঘ্রই মিলবে।












Discussion about this post