বিভিন্ন সমাজ মাধ্যম থেকে বারবার শোনা যায় বাংলাদেশ যেভাবে ভারত বিরোধীতা করে চলেছে, তাতে ভারত যে কোন দিন, পাকিস্তানের মত বাংলাদেশেও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা সীমান্তে ছোট খাটো সৈন্য অপারেশন চালাতে পারে। কিন্তু ভারত যে রাশিয়া নয় এবং মোদিজী যে পুতিন নন, সেটাও বুঝতে হবে। ভারত হল চানক্য নীতি মেনে চলা দেশ। যে দেশ যুদ্ধ নয়, সাম দাম দন্ড ভেদ এই নীতিতে বিশ্বাস করে। ফলে অনেকে মনে করেন যে বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যে আক্রমনাত্বক কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে, বা জঙ্গীদের আশ্রয় থেকে শুরু করে, ভারতের সেভেন সিস্টার নিজেদের ম্যাপের মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে, তা আবার অন্য দেশকে উপহার দিচ্ছে, তাতে ভারত যদি বাংলাদেশের উপর সৈন্য নিয়ে চড়াও না হয়, তাহলে ভারতের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। আর ভারতের বাংলাদেশ আক্রমন করা উচিৎ, এটি মনে করে অনেক ইউনূস বিরোধী বাংলাদেশের মানুষও। কিন্তু যে দেশের উপর আক্রমনের কথা উঠছে, সেই দেশের নাম পাকিস্তান নয়, সেই দেশের নাম বাংলাদেশ। যাকে ভারত স্বাধীনতা অর্জনে সহয়তা করেছিল নিজেদের রক্ত ঝরিয়ে। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পর বহু বছর ধরে বাংলাদেশের প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে ভারত। ফলে বাংলাদেশে ভারত কোন আক্রমন করবে না, তা প্রায় এক প্রকার নিশ্চিৎ। যদি না, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নিজের থেকে যুদ্ধের জন্য না উতলা হয়ে উঠে। ভারত থেকে সরকারী পর্যায়ে এমন কোন বার্তা এখনও বাংলাদেশকে দেওয়া হয়নি, যাতে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরী হয়। শুধু মাত্র ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন যে, ইউনূস সাহেব যেন বুঝে সুজে কথা বলেন, বিশেষ করে সেভেন সিস্টার নিয়ে যখন কথা বলবেন। ভারত তো আর গরুর গাড়ী বা প্রস্তর যুগে পড়ে নেই। যে চিকেন নেকে আক্রমন হলে ভারত সেভেন সিস্টার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ডোভাল সাহেব বাংলাদেশের জাতীয় নিরপত্তা উপদেষ্টাকে বলেছেন, ৫ই আগস্টের পর বাংলাদেশে পাকিস্তানের গতিবিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে ভারতের কোন আপত্তি নেই। কোন দেশে কে আসবে সেটি সেই দেশের ব্যাপার। তবে ভারতীয় সীমান্তে এমন কোন লোক জনের আনা গোনা ভারত মেনে নেবে না, যাতে ভারতের নিরপত্তা বিঘ্নিত হয়। শুধু দিল্লী ব্লাস্ট নয়, কিছু দিন আগে মুর্শিদাবাদে যে স্থানীয়ভাবে দাঙ্গা হয়েছিল, সেখানেও আনসারউল্লা বাংলা টিমের লোক জন জড়িয়ে ছিল।ডোভাল সাহেব বলেছেন তোমরা আনসারউল্লা বাংলা টিমের প্রধান জসীমুদ্দীনকে ছেড়ে দিয়েছ, সে এখন ভারতে অস্থিরতা চালাতে চাইছে। তাছাড়া ভারতের অংশ নিজেদের ম্যাপে ঢুকিয়ে তোমরা কি বোঝাতে চাইছ। যদিও ভারতের এই গোয়েন্দা প্রধান হাসতে হাসতেই জানতে চেয়েছিলেন। তবে শুধু দিল্লী বিস্ফোরণে উপদেষ্টাদের যোগ সাজেসই নয়, গত ১৫ মাসে বাংলাদেশ, কি কি ভাবে এবং কোথায় কোথায় ভারত বিরোধীতা করেছে তার সমস্ত নথি প্রমান সহ খলিলুর সাহেবকে দেওয়া হয়েছে। তো খলিলুর সাহেব কি বুঝলেন তা বোঝা যাবে তিনি বাংলাদেশে ফিরে সাত দিন কাটার পর। তবে এটাও ঠিক বাংলাদেশ যে কিছু ব্যাপারে নরম সেটা বোঝা যাচ্ছিল আদানীদের বিল মেটানো থেকে শুরু করে, জাকির নায়েক কে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে। এখন দেখার খলিলুর সাহেব কি ছাত্রদের বোঝাতে পারবেন, যে দেশ চালানো আর মব সৃষ্টি করা এক জিনিস নয়।
ইউনূস সাহেব কতদিন ক্ষমতা দখল করে থাকতে পারবেন, তা তিনি নিজেও জানেন না। কারণ তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। ফলে তার অস্তিত্ব ধূমকেতুর মত কখন যে উবে যাবে তা তিনি নিজেও জানেন না। তার উপর তার নিয়োগকর্তারা তাকে মাঝে মাঝে শাসানি দেয় যে আমরা আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। অতয়েব আমাদের কথা শুনতে হবে। একে তো তিনি কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, তাকে বসিয়ে যারা স্বার্থ সিদ্ধি করতে চাইছে তারাও সখ্যায় অনেক। ফলে বহু জনের বহু রকম স্বার্থ দেখতে গিয়ে তিনি নাজেহাল। যেহেতু তার অস্তিত্ব জামাতের হাতে,তাই তিনি তাদেরকে তোষামদ করে চলেন নিজের গদি বাঁচাতে। আর এই করতে গিয়ে পাকিস্তান এবং আইএসআইকে প্রাধান্য দিতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি। কিন্তু আইএসআই এর লক্ষ্য কি? সেটি বোঝার আগে বুঝতে হবে, এটি কি ধরণের সংগঠন। আসলে এটি নামেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা, কিন্তু সারা বিশ্ব জানে এটি অনেকগুলি জঙ্গী সংগঠনের প্রধান কার্যালয়। যাদের লক্ষ্য শুধু ভারত বিরোধীতা নয়। টাকার বিনিয়েম যে কোন দেশে জঙ্গী কার্য কলাপ সম্পন্ন করা। যে কারণে দিল্লী বিস্ফোরনের পর সারা বিশ্ব ভারতের পাশে থাকলেও, পাকিস্তানের কোন বিস্ফোরণের পর, বিশ্বের কোন দেশ সহানুভুতি জানায় নি। ব্যাপারটা এই রকম নিষিদ্ধ বাজি তৈরীর কারখানায় বিস্ফোরণ হলে, ব্যাপারটা কারখানার মালিকের অসাবধানতা এবং অপরাধ। আর সেই কারখানা থেকে বিস্ফোরোক নিয়ে কারো বাড়ীতে বিস্ফোরণ ঘটালে সেটি হল অন্যায় হামলা। বর্তমানে পাকিস্তান হল নিষিদ্ধ জঙ্গী তৈরীর কারখানা। তাই যে কোন সময় পাকিস্তানে হামলা হলেও, বাংলাদেশে নয়।












Discussion about this post