একেবারে সাঁড়াশি চাপে ড. ইউনূস।
হাসিনা ফেরত পাওয়া নিয়ে চাপ। দিল্লিতে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে অজিত ডোভালের বৈঠক নিয়ে চাপ। এবার চাপ আসছে আন্তর্জাতিকমহল থেকেও। হাসিনার রায় নিয়ে এর আগে মুখ খুলেছিল জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন। এবার মুখ খুলল হিইম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক মহল। এই ধরনের একটা বাতাবরণ তৈরি হবে, তার একটা ক্ষেত্র কিন্তু অনেকদিন আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। সৌজন্যে বাংলাদেশের ‘নোবেল ম্যান’।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লু) হাসিনার মৃত্যদণ্ড নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ‘দুইজনের (হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান) অনুপস্থিতিতে বিচার হয়েছে। বিচারে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। সরকারের তরফ থেকে আইনজীবী দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এই বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না।’
এই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বেনজির গতিতে হয়েছে বিচার। এই মামলার রায় ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, হাসিনা প্রশাসনের নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী, তাদের যথাযথভাবে জবাবদিহি করা উচিত ছিল। বিচারপ্রক্রিয়ায় তার অভাব রয়েছে। তাছাড়া আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচারের মানদণ্ড পূরণ করার মূল তিনটি শর্ত রয়েছে। একটি হল আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ। দ্বিতীয় সাক্ষীদের বিরুদ্ধে জেরা করার পূর্ণ সূযোগ। তৃতীয় এবং সর্বশেষ বিষয়টি হল বিবাদী পক্ষ (হাসিনা এবং আসাদুজ্জমান) তাদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেনি।
একই সুরে সুর মিলিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। তাদের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালমার্ড বলেন, ‘২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টে যে নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তার জন্য দায়ীদের অবশ্যই তদন্তের আওতায় এনে ন্যায়সংগত বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কিন্তু এই বিচার ও রায় কোনওভাবেই ন্যায় সংগত নয়। ’
এইচআরডব্লু তাদের প্রতিবেদনে এটাও জানিয়ে দিয়েছে, হাসিনা সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, অন্যায়ভাবে বিচার করা এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
সংস্থার ডেপুটি এশিয়ার ডিরেক্টর মিনাক্ষী গাঙ্গুলি এই রায়ের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে জানান, ‘হাসিনার দমন-পীড়ন মূলক শাসন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ এবং হতাশা রয়েছে। তারপরেও সব ফৌজদারি কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক ন্যায় বিচারের মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেছেন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিশ্বাসযোগ্য বিচারের মাধ্যমে হাসিনা প্রশাসনের অধীনে ভয়াবহ নির্যাতনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করা উচিত।
বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যারা ২০২৬ –য়ের নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদেরও ন্যায়বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া উচিত। এই ধরনের সহায়তার জন্য মৃত্যদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ প্রয়োজন। ’
তবে জাতিসঙ্ঘের অবস্থান কিন্তু একেবারে ভিন্ন। তারা মৃত্যুদণ্ডের প্রবল বিরোধিতা করেছে। জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের অবস্থান তুলে ধরেন তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। হাসিনার বিরুদ্ধে যেদিন ক্যাঙারু আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল, সেই দিন জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে ব্রিফিংয়ের সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন- ‘শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে মহাসচিবের প্রতিক্রিয়া কী?’মহাসচিবের মুখপাত্রটি বলেন, ‘আমরা মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের বক্তব্যের সঙ্গে একমত। আমরা সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে। ’












Discussion about this post