পিটার পিটার পাম্পকিন ইটার কবিতার কথা মনে আছে। এই প্রতিবেদনের সূত্রে সেই কবিতার কয়েকটি ছত্র উল্লেখ করি –
‘পিটার/পিটার/পাম্পকিন ইটার/হ্যাড আ ওয়াইফ বাট কুডন’ট কিপ হার / হি পুট হার ইন পাম্পকিন শেল/ অ্যান্ড দেয়ার হি কেপ্ট হার ওয়েল।’
এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যে এক পিটার জড়িয়ে রয়েছে আষ্টেপৃষ্ঠে। তাঁর নাম পিটার হাস। বাইডেন প্রশাসনের আমলে তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। যে কবছর বাংলাদেশে ছিলেন, সেই কয়বছর পদ্মপারের মানুষ দেখেছিল তাঁর দাপট। কত কি না বলেছিলেন। তার মধ্যে একটা হল হাসিনার শেষ নির্বাচন নিয়ে। ঢাকায় থাকাকালীন তাঁকে দেখা গিয়েছিল সানজিদা তুলির প্রতিষ্ঠান ‘মায়ের ডাক’ –য়ের উদ্যোগে এক আলোচনাসভায় যোগ দিতে। সেখানে তিনি জ্বালাময়ী বক্তব্য রেখেছিলেন। রাষ্ট্রদূত থাকা কালীন তিনি হাসিনার বিরুদ্ধে গলা তুলেছিলেন। গলা তুলেছিলেন হাসিনার প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তাদের এই বলে হুমকিও দিয়েছিলেন যে মানবতাবিরোধী কাজে যারা লিপ্ত তাদের আমেরিকা যাওয়ার পথ তিনি বন্ধ করে দেবেন। এমনকী হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরাতে যারা পিছন থেকে কলকাঠি নাড়বেন, তাদের কার্যত দেখে নেওয়ার বার্তা দেন। এখানেই শেষ নয়। আওয়ামী বিরোধী দলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। তাদের পানিগ্রহণ করেছেন। এটা ২০২৪ সালের কথা।
ওই বছর বাংলাদেশে ঘটেছে পালাবদল। ক্ষমতায় বসেছেন ডিপস্টেটের দালাল ইউনূস। তিনি হাসিনা আমলে হওয়া বিভিন্ন অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেন। সেই উদ্যোগের নিট ফল আমরা জেনে গিয়েছি। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে এই নিয়ে কিন্তু কোনও প্রতিক্রিয়া আসেনি। এমনকী ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসও আশ্চর্য নীরব। তাদের এই নীরবতা কিন্তু অন্য একটা সংকেত দিচ্ছে। সেই সংকেত ইউনূসের জন্য। সহজেই অনুমান করা যায় কী সেই সংকেত।
বাইডেন প্রশাসনের আমলে মার্কিন বিদেশনীতি আর ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে মার্কিন বিদেশনীতির মধ্যে একটি বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আর সেই বদলে যাওয়া বিদেশনীতি ইউনূস এবং তাঁর সরকারকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। শেখ হাসিনার দিকে তারা বাধ্য হয়েছে ঝুঁকতে। বঙ্গবন্ধু কন্যা কিন্তু আমেরিকার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। ভারতের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকা সরসরি তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন না। তবে ইউনূসের মার্কিন বন্ধুদের হাত থাকার সম্ভাবনা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এর আগেও তিনি ভারতের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমেরিকার ওপর ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তারা একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সে কারণে তাঁর ওপর চাপ বাড়ছে। হাসিনা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন, যে এই গুলি তিনি মেনে নিলে ক্ষমতা থেকে তাঁকে সরতে হত না।
একটি মার্কিন গণমাধ্যমের তরফে হাসিনা প্রশ্ন করা হয় যে ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পিছনে মার্কিন ডিপস্টেট কতটা কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন? বঙ্গবন্ধুকন্যা উত্তর দিয়েছেন বেশ কৌশলে। বলেছেন, ‘আমাদের সব প্রশাসনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল। তাই, আমাদের বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও বিদেশি শক্তি আমাদের ক্ষমতাচ্যূত করতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post