১৭ ই নভেম্বর গোটা দেশ ব্যস্ত ছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা নিয়ে। ঠিক সেইদিনই চট্টগ্রাম বন্দরে ফিরেছে রাশিয়ান যুদ্ধ জাহাজ। এর আগে পাকিস্তানি যুদ্ধ জাহাজ এসেছিল। সেই পাকিস্তানি রণতরী আসার প্রেক্ষাপটে সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, তারা শুভেচ্ছা সফরে এসেছিল। রাশিয়ায় যুদ্ধ জাহাজ কেন বাংলাদেশের বন্দরে? সেটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এই খবরটি বাংলাদেশের মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি গণমাধ্যম সামনে এনেছে। কারণ ওই দিন বাংলাদেশের ঘটে গিয়েছে আর একটি বড় ঘটনা। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে কম বড় ঘটনা নয়। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সখ্যতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কি নতুন কোনও চাল দিতে চাইছে ভারত? এই নিয়ে বাংলাদেশের অন্দরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে রুশ যুদ্ধ জাহাজ কেন ভিড়ল? প্রশ্ন যেমন উঠছে, ঠিক অন্যদিকে তার গতিবিধি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে। পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে নোঙর করেছে রাশিয়ার নৌ বাহিনীর জাহাজ গ্রেমেয়াশচি। ১৭ ই নভেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছয়। জাহাজের কর্মকর্তাও নাবিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিপস স্টাফ অফিসার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উচ্চ পদস্থ নৌ কর্তারা। এমনকি হাজির হয়েছিলেন রাশিয়ান মিলিটারি অ্যাটাশে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বিএনএস ওমর ফারুক গ্রেমেয়াশচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসকর্ট করে। বাংলাদেশে ও জাহাজটি থাকা অবস্থায় জাহাজটির অধিনায়কসহ রাশিয়ার প্রতিনিধির দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট, এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান-সহ বেশ কয়েকজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জানা যায়, রাশিয়ান জাহাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিভিন্ন জাহাজ ঘাটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত স্কুল চট্টগ্রামের বেশ কিছু ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন। এমনটাই বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, আদেও কি এটি শুভেচ্ছা সফর, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্যে রয়েছে? যদিও এর আগে পাকিস্তানের জাগাজ ভিড়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে। যেটাকেও শুভেচ্ছা সফর বলা হয়েছিল। অন্যদিকে, ওই দিন আরও একটি ঘটিনা ঘটেছে। যেটা সচেতনভাবে অন্তবর্তীকালীন সরকার করেছে দেশের জনগণকে অন্তরালে রেখে। জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্প এবং ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার বিষয়টির সামনে এসেছে। দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি তৈরি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সূত্রের খবর, চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনাল এবং পানগাঁও অভ্যন্তরীণ অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনালে কাজ করবে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ। চুক্তি অনুসারে, ললদিয়া টার্মিনালে ত্রিশ বছর এবং পানগাঁওয়ে ২২ বছর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। সেটিনও প্রশ্ন উঠেছিল, যেদিন শেখ হাসিনার রায়দান ঘোষণা নিয়ে যখন সারা দেশ ব্যস্ত ছিল, তখন এই চুক্তি কেন? তবে কি এর পিছনে অন্য কোনও কৌশল রয়েছে? যেটাতে সাধারণ মানুষ বিরোধীতায় যেতে পারে? এরমধ্যে রাশিয়ান জাহাজ চট্টগ্রামে একই দিনে। ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সখ্যতার কথা গোটা বিশ্ব জানে। তবে কি ভারত এর পিছনে রয়েছে? বাংলাদেশ কি নিয়ে অন্য কোনও পরিকল্পনায় রয়েছে রাশিয়া-ভারত?












Discussion about this post