বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবারই দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে শুরু হয়েছে ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’। যে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে একদিন আগে অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতেই তিনি দিল্লি পৌঁছে যান এবং বুধবার রাতেই অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেই বৈঠকে কি কি বিষয়ে আলোচনা হল, হাসিনার প্রসঙ্গ উঠল কিনা তা নিয়ে খুব একটা খবর সামনে আসেনি। তবে বিভিন্ন সূত্র যেটা জানা যাচ্ছে, সেটাও খুব তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রথমেই জেনে রাখা প্রয়োজন সেটা হল ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’ কি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং এই বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে অংশীদারিত্ব জোরদার করার জন্য এই সম্মেলন সংগঠিত হয়। ভারতের নয়টি সীমান্তবর্তী দেশের বাইরে, সেশেলস এবং মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলিও এই নিরাপত্তা পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করছে। এই সংস্থার ষষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সম্মেলন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মরিশাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার এটি ভারতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই পারস্পরিক সহায়তা এবং আঞ্চলিক শান্তিরক্ষার বার্তা দিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না-করার কথাও বলেছেন তিনি। এদিন তাঁর ভাষণে খলিলুর বলেন, ‘‘বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসাবে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, সমৃদ্ধি আমাদের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়। স্বাধীন, উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং শান্তিপূর্ণ ভারত মহাসাগর নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ বরাবর সেই দৃষ্টিভঙ্গিকেই সমর্থন করে আসছে। এখানে উল্লেথ করা প্রয়োজন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চলতি বছরেই চিন সফরে গিয়ে বাংলাদেশকে “বঙ্গোপসাগরের রাজা” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। সে নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। ভারতও যে এই মন্তব্য ভালো চোখে নেয়নি তার প্রমা্ন মিলেছিল দু-দেশের স্থলবন্দর বন্ধ করা এবং বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায়। কিন্তু এবার দিল্লিতে ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’ থেকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেনে নিলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের কাছে সমুদ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে বেআইনি কার্যকলাপ, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্য দেশগুলির সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করতে চায় সে কথাও বললেন তিনি। সেই সঙ্গে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি বাংলাদেশ ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলেও জানান খলিলুর রহমান।
কিন্তু ঘটনাচক্রে বাংলাদেশ মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। ইউনূসের বাংলাদেশ ক্রমশ পাকিস্তানের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। ঠিক এই আবহেই খলিলুর রহমান দিল্লি সফরে আসা এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে একান্ত বৈঠক করা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডোভাল এই মুহূর্তে একটি ভয়ানক জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙতে মরিয়া। যারা দিল্লিতে সিরিয়াল ব্লাস্ট করতে উদ্যোগী ছিল। সম্প্রতি দিল্লির লালকেল্লায় যে বিস্ফোরণ হয়েছে এবং ফরিদাবাদে যে বিপুল পরিমান বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে তার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র পেয়েছে এনআইএ। আবার, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে বাংলাদেশের জঙ্গি কার্যকলাপের গতিবিধিও যে বেড়েছে সেই রিপোর্টও ভারতীয় গোয়েন্দাদের হাতে আছে। এই পরিস্থিতিতে অজিত ডোভাল যে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে জঙ্গিবাদ নিয়ে সতর্ক করবেন সেটা বলাই বাহুল্য। খলিলুরও এদিন তাঁর ভাষণে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের প্রতি বাংলাদেশ ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলে জানা্ন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, খলিলুরের সুর অনেকটাই নরম শুনিয়েছে। উল্লেথ্য. এই আবহেই বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানিয়েছেন, সীমিত মানবসম্পদ ও সক্ষমতার মধ্যেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবসায়িক ভিসা ইস্যু করার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। তাহলে কী ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে উন্নতি হচ্ছে?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post