শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণা হয়ে গেল। তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এরপর থেকেই বাংলাদেশ কার্যত হাই অ্যালার্টে রয়েছে। আওয়ামী লীগ একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যা নিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলিও তৎপর রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অদ্ভুতভাবে নিশ্চুপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাসদস্য এবং কর্তাদের খুব একটা সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে না। এই আবহে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘুরে গেল?
এমন সম্ভাবনা আগেই দেখা যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগ ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জুড়ে মিছিল, প্রতিবাদ সভা এবং লকডাউনের ডাক দিয়েছিল। সে সময়ই দেখা গিয়েছিল সেনাবাহিনী খুব একটা সক্রিয় নেই। একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, সেনাবাহিনীর সামনেই আওয়ামী কর্মী সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করেছে। বাহিনী তাঁদের বাঁধা দিচ্ছেন না। এরপর শাটডাউন কর্মসূচিতেও একই চিত্র দেখা গেল। সবচেয়ে বড় ঘটনা হল, হাসিনার সাজা ঘোষণার দিন ঢাকার ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি ভাঙতে দুটি বুলডোজার নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল একদল দুস্কৃতি। কিন্তু সেনাবাহিনী সেখানে পৌঁছায়, এবং তাঁদের মেরে তাড়িয়ে দেয়। ফলে এটা একটা পরিবর্তন।
এই পরিস্থিতিতে কার্য়ত চাপে পড়ে গিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গত বছরের জুলাই-অগস্টে বিক্ষোভকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বলেই হাসিনা সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল। বুধবার এমনই দাবি করলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই কারণে আমি তাদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করি’। বুধবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কনভোকেশনে তিনি এই মন্তব্য করেন। একদিকে জুলাই আন্দোলনের ছাত্ররা সেনাদের ‘পোষা কুকুর’ বলতেও দ্বিধা করছে না, সেখানে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা মুহাম্মদ ইউনূসের মুখে। আসলে সেনা সহায়তার কথা বলে আসলে সেনাকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
ইউনূস বলেন, “সেনা সদস্যরা এমন পরিস্থিতিতে কী করবে? ছাত্রদের সঙ্গে যুক্ত হবে নাকি সরকারের? এই প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা যে কারোর। বাংলাদেশ একটি সৌভাগ্যবান দেশ যে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের প্রধানদের নেতৃত্বে দেশের মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। সেই কারণেই বিগত শাসনের অবসান দ্রুত হয়েছে।” উল্লেখ্য, মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার বনাম বাংলাদেশ সেনার দ্বন্দ্ব বহুদিন ধরেই প্রকাশ্যে। এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে দেশের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সুরেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এই পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ইউনূস সেনাবাহিনীকে কাছে টানার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post