অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নজিরবিহীন ঘটনা। হাইকোর্টের নির্দেশ গেল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে। যেটা এই সরকারের আমলে প্রথম ঘটল। কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিচারব্যবস্থার ওপর প্রভাব খাটাচ্ছে তারা। কিন্তু এই মুহূর্তে যে ঘটনা ঘটল, সেটা সরকারের বিপক্ষেই গেল। চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ। তবে কি এই নির্দেশে খেলা ঘুরতে শুরু করল বাংলাদেশে?
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। চুক্তির সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। এমন আদেশ জারি করেছে হাইকোর্ট। জানা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম বন্দর নিউমুরিং কনটেইনারের টার্মিনাল হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রম বন্ধের মৌখকভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেদেশের হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে আশ্বস্ত করে জানায়, মামলার রায় না হাওয়া পর্যন্ত কোনও কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে না। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যোষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষ ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো আসাদুজ্জামান। জানা গিয়েছে, বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি হস্তান্তরের বৈঠতা প্রশ্নে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এই রিটটি করেন। কারণ আদালতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, এই বন্দর দেশের নিরাপত্তাজনিত বিষয়। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরত্বপূর্ণ তাই নয়, এর সঙ্গে জড়িত একাধিক বিষয়। তাই বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া রাষ্ট্রের পক্ষে অত্যন্ত বিপদজ্জনক। তাই আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত এই মামলা চলবে ততদিন পর্যন্ত এই টার্মিনাল বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেোয়ার ক্ষেত্রে তৎপরতা দেখিয়েছিল অন্তবর্তীকালীন সরকার। কিন্তু দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল যেমন বিএনপি থেকে শুরু করে এনসিপি…এমনকি সেনাপ্রধান এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিলেন। এর জেরে বিষয়টি খানিকটা থিঁতিয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে যেদিন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেদিন ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করল, সেদিন চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল প্রকল্প এবং ঢাকার কাছে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার বিষয়টির সামনে এসেছে। দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি তৈরি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সূত্রের খবর, চট্টগ্রামের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনাল এবং পানগাঁও অভ্যন্তরীণ অভ্যন্তরীণ কন্টেনার টার্মিনালে কাজ করবে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ। চুক্তি অনুসারে, ললদিয়া টার্মিনালে ত্রিশ বছর এবং পানগাঁওয়ে ২২ বছর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। যেটা নিয়েও বাংলাদেশে প্রবলভাবে আলোচনা তৈরি হয় পরে। কারণ প্রশ্ন ওঠে, যখন সারা দেশ যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা ঘোষণার দিন ব্যস্ত ছিল, ঠিক ওইদিনই কেন এই চুক্তি? তবে কি চুক্তির মধ্যে এমন কিছু ছিল যেটা নিয়ে দেশে বিরোধীতা তৈরি হতে পারে? যদিও পরে জানা গেল বিষয়টি। এখন দেখা যাচ্ছে, হাইকোর্টও সেই পথে হাঁটল। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে গেল আদালত। এখন দেখার, সরকার এই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যায় নাকি বিকল্প পথে হাঁটে!












Discussion about this post