প্রতিরক্ষা দিবসের দিন সেনা সদরের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একটি বক্তব্য দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবসের দিন সশস্ত্র বাহিনীকে যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ঠিক তেমনই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। বক্তব্য রাখার সময় একটি মন্তব্য করেছেন মুহাম্মদ ইউনূস। যা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। ইউনূস সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন। এমনকি তিনি বলেন, যদি গণ অভ্যুত্থানের সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা পজিটিভ না হত, তাহলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটত না। অনেকে বলছেন, তবে কি ইুনূসের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সেনাপ্রধানের মুখোশ খুলল? আসলে আর কি কি বললেন প্রধান উপদেষ্টা, চলুন আলোচনা করা যাক।
সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য নিয়ে তুমুলভাবে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, সেনারা পাশে ছিল বলেই হাসিনা সরকারের পতন দ্রুত হয়েছে।
বাংলাদেশের সেনাবাহিনী গত জুলাই মাসে বিক্ষোভকারীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল বলেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন দ্রুত ঘটেছে। সেনাবাহিনী সঠিক সময়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। মীরপুর সেনা নিবাসে ডিফেন্স স্টাফ অফ কমান্ড কলেজের কনভেকশনে এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ-সহ বিশ্বের ২৪ টি তরুণ সামরিক কর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন। এ বছর চিন, পাকিস্তান, ভারত, তুরস্ক-সহ বিভিন্ন দেশের ৩১১ জন আধিকারিক প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন। জুলাই-অগাষ্টে ছাত্র আন্দোলনে সেনাবাহিনীর ভূমিকায় প্রশংসা করেন ইউনূস।
এখানেই অনেকে বলছেন, গণভ্যুত্থানের পরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান যখন গোটা দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তখন তাঁর উপর অনেকে ভরসা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁর আসল উদ্দেশ্যে সামনে চলে আসে। শুধু তাই নয়, কিছু সময় সেনানিবাসের সঙ্গে যমুনার দূরত্বও তৈরি হয়। এমনকি মুহাম্মদ ইউনূসের নিয়োগকর্তা তথা কিছু ছাত্রনেতা সেনাবাহিনীকে ‘পোষা কুকুর’ বলতেও দ্বিধাবোধ করছে না। ১৭ই নভেম্বর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগেও একদল যুবক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ধানমন্ডি বাড়ির ধ্বংসাবশেষ গুড়িয়ে দিতে উদ্যত হয়। সেই সময় পুলিশ ও সেনারা তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। সেইসময় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে বাকবিণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে বিক্ষুব্ধরা। এমনকি যথেচ্ছভাবে গালমন্দ করতে থাকে তারা। আর এখন প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে। তবে গণঅভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর হাত ছিল, নাকি ছিল না তা নিয়ে বিভিন্ন সময় সংশয় তৈরি হয়েছে দেশের অন্দরে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের পরে আর কোনও সংশয় নয়। বরং এতদিন ধরে যেগুলি বলা হচ্ছিল, সেগুলিই সঠিক। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাধ্য করা হয়েছিল দেশ ছাড়াতে। বাধ্য করেছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এমন কথা নানা সময় উঠে এসেছে। তবে এখন সেটা দিনের আলোর মতো পরিস্কার। অন্যদিকে মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠভাবে হয়, তার জন্য সেনা সদস্যকে মাঠে নামানোর আহ্বানও জানান। যদিও অনেক আগে থেকেই সেনাবাহিনী যে প্রস্তুত, সেটা আগেই ঘোষমা করে দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। এখন দেখার, এদিন নতুন করে যে দিকের উন্মোচন করলেন প্রধান উপদেষ্টা, তা নিয়ে দেশের অন্দরে আর কি প্রতিক্রিয়া আসে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post