“বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া”
হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর ইউনূস সরকারের ভূমিকা “বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া” ছা়ডা আর কিই বা বলা যেতে পারে। কম চিৎকার করেছে। কম হুঙ্কার দিয়েছে। কত কিই না বলতে শোনা গেলে। দিল্লির সাউথব্লক হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য। দিল্লি হাসিনাকে ফেরত না দিলে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হওয়ার ধমকি দিয়েছে। আর সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান দিল্লিতে জেমস বন্ডের সঙ্গে দেখা করার পর বেলুন চুপসে গিয়েছে। কতটা চুপসে গিয়েছে, সেটা অবশ্যই এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। তার আগে ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠকে হাসিনা প্রসঙ্গে কী কথা হয়েছে তা এই ফাঁকে একবার তুলে ধরা দরকার। তাহলেই বোঝা যাবে কেন শুরুতে বলা হয়েছে “বহ্বারম্ভে লঘুক্রিয়া”।
সূত্রের খবর, ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর রহমান হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তার জবাবে ডোভাল তাঁকে বলেছিলেন ওখানে রায় হয়েছে সেটা কাগজে দেখেছি। সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের চাইবেন, তখন আমরা সেই সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখব, চিন্তাভাবনা করব (হাম পরখকে দেখেঙ্গে)।
শুধু কি হাসিনা প্রসঙ্গ? ডোভালকে খলিলুর রহমান সেই বিতর্কিত, যে বইয়ের প্রচ্ছদে একটি বিতর্কিত মানচিত্র আঁকা ছিল, সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে তিনি হাসতে হাসতে প্রশ্ন করেন ইয়ে ক্যায়া হ্যায় (এসব কী?) হোয়াট ডু ইউ মিন টু সে? (আপনারা কী বোঝাতে চাইছেন?)। শোনা যাচ্ছে জেমস বন্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর খলিলুর রহমানের নাকি কাবাব খেতে আর ভালো লাগছে না। যে কাবাব দিল্লি থেকে তাঁকে খাইয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই কাবাব নাকি এখনও হজম করে উঠতে পারেনি। সেটা প্রমাণ দিচ্ছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকে ভূমিকা।
ভারত থেকে ফেরাতে দিল্লিতে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে চিঠি পাঠানো হয়েছে কিনা, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি সরকার। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেও পররাষ্ট্র সচিব কোনও উত্তর দিচ্ছেন না। বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ভারত বা শেখ হাসিনা ইস্যুতে সব ধরনের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ সফরে গিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। তাঁর ঢাকা সফর উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদেশ সচিব আসাদ আলম সিয়াম সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে সাংবাদিকরা শেখ হাসিনাকে ফেরানো- সংক্রান্ত চিঠির প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে বিদেশ সচিব বলেন, ‘এই সংবাদ সম্মেলন সম্পূর্ণই ভুটান সফর-সংক্রান্ত। এর বাইরে অন্য বিষয়ে আলোচনা করা অসৌজন্যমূলক হবে।’ বোঝো কাণ্ড। সাংবাদিক সম্মেলনে কী প্রশ্ন করা হবে, সেটাও কি তদারকি সরকার ঠিক করে দেবে না কি? সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনকে সাংবাদিকরা ঘিরে ধরেন এবং একই প্রশ্ন করেন– দিল্লিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে কিনা ? বিষয়টি কেন গোপন রাখা হচ্ছে?। তিনি চুপ।
এর আগে গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানিয়ে ছিলেন, নোট ভারবাল হিসেবে দিল্লিতে চিঠি পাঠানো হবে। একটি সূত্রে জানিয়েছে জানায়, কূটনৈতিক চিঠি প্রস্তুত হয়ে গেছে। তা ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনেও পাঠানো হয়েছে। তবে তা দিল্লির কাছে এখনও পৌঁছায়নি। এ বিষয়ে গত বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে চিঠি পৌঁছানোর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কূটনৈতিক বিভাগ থেকে প্রেস বিভাগে এখনও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তথ্য দেওয়া হলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।












Discussion about this post