ভারতের আশ্রয়ে থাকা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালকে সে দেশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য এবার ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তদারকি সরকার। আইন, বিচার এবং সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল শুক্রবার (২০ নভেম্বর) ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘এই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফেরত আনার বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যেতে পারি কি না, তা নিয়ে শীঘ্রই সরকার বৈঠকে বসবে। ’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘ শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের জন্য সরকার ভারতকে একটি চিঠি পাঠাবে। তাঁরা দুজনেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ দ্বারা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা যেহেতু দোষী সাব্যস্ত এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের ফেরত পাঠাতে ভারতের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা ভারতকে তাদের প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। সে কারণেই এই চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’
প্রশ্ন হল, চিঠি পাঠালেই কি ভারত হাসিনাকে সে দেশের হাতে তুলে দেবে?
সোমবারের রায়ে নিয়ে ভারত কিন্তু কৌশলী বার্তা দিয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিবৃতি গুণে গেঁথে মাত্র কয়েকটি শব্দ খরচ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রায় তারা দেখেছে। ওই রায় খতিয়ে দেখা হবে। একবারের জন্য কিন্তু হাসিনাকে নিয়ে একটি শব্দ সাউথব্লক খরচ করেনি। আর ডোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠকে হাসিনা প্রসঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আসলে হাসিনাকে নিয়ে ঢাকার প্রথম যাত্রাপালা চূড়ান্ত ফ্লপ। এবার দ্বিতীয় যাত্রাপালা শুরু হতে চলেছে। যে যাত্রাপালার নেপথ্য নায়ক এই আসিফ নজরুল। ইতিমধ্যে ভারত-বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যে এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক স্তরের। তাই, এখানে তৃতীয় পক্ষ কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সেটা ঢাকা ভালো করেই জানে। সুতরাং, তারা ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হলে ভারত আরও জোর গলায় বলতে পারবে, দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কেন তৃতীয়পক্ষকে ডাকা হচ্ছে। তা ছাড়া প্রত্যর্পণ আইনে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ভারত যদি মনে করে এই রায়ের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চরিতার্থ পূরণ করা তাহলে হাসিনাকে তারা ঢাকার হাতে কোনওভাবেই তুলে দেবে না। আন্তর্জাতিকমহল মনে করে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার নিরিখে হাসিনাকে দিল্লি সে দেশের হাতে তুলে দিলে ভারতের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হবে। সাউথব্লক সেটা কোনও অবস্থাতেই করতে চাইবে না। তাছাড়া যে আদালত হাসিনা এবং তাঁ আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, সেই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। সেই আদালতকে তো কোনও দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। তাহলে যে আদালতের কোনও সাংবিধানিক বৈধতা নেই, সেই আদালতের রায়কে যে ভারত গুরুত্ব দেবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার এটাই যে দিল্লি কবে হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকার চিঠি পায়?












Discussion about this post