সংবাদের শিরোনাম দেখে যে কেউ আঁতকে উঠতে পারে? কারও বুক ধরফর করতে পারে। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শিরোনাম তো দিনের আলোয় ভূত দেখার মতো। যাদের সম্পর্ক সাপে-নেউলে, আদায়-কাঁচকলায় সেই বিএনপি এবার আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে বাংলাদেশের ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে! খবর আজব লাগলেও গুজব নয়। যাকে বলে ষোলো আনার ওপর আঠারো আনা খাঁটি। প্রশ্ন উঠছে, ভোট আসছে বলেই কি নমনীয় বিএনপি? না কি অন্য কোনও কারণ রয়েছে।
আওয়ামী লীগ জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই নির্বাচন বয়কট করবে। তাদের পিছনে লাখো লাখো মানুষের সমর্থন রয়েছে। এখানেই যোগ-বিয়োগের অঙ্ক লুকিয়ে রয়েছে। দিন কয়েক আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীরের কিছু কথা কিন্তু শত্রুদলের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, “ আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চাই না। আওয়ামী লীগের মতো মামলা করতে চাই না। ওই দলের বিরুদ্ধে যত মামলা আছে সব মামলা তুলে দেব। ” গল্প কিন্তু অন্যজায়গায়।
বাংলাদেশে যে চরম অরাজকতা চলছে, সেট বিএনপি জানে না তা নয়। বিএনপি এটাও জানে যে হিজবুর তাহেরের মতো জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা নির্বিবাদে বাংলাদেশে ঘুরে বেরাচ্ছে। মৌলবাদী শক্তি মাথা চাড়া দিয়েছে। জামায়াত এখন বিষাক্ত সাপের ফনার মতো ফোঁস ফোঁস করছে। জিয়ার দল বুঝতে পেরেছে ইউনূসের মতলবটা কি?
একে ইন্টারন্যাশাল খিলাড়ি, তাঁর ওপর ব্যাঙ্কের প্রাক্তন কর্মী। তাই, ভদ্রলোক হিসেবেটা বেশ ভালোই বোঝেন। ভদ্রলোক কি না তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠতে পারে। সেটা অন্য বিষয়। ইউনূস জানেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে তাঁর হাতে থাকা দরকার দুটি অস্ত্র। প্রথম অস্ত্র সেনা-পুলিশ-প্রশাসন, দ্বিতীয় অস্ত্র দেশের মৌলবাদী শক্তির সমর্থন। প্রথম অস্ত্রের ধার আর আগের মতো নেই। সেনা-পুলিশ-প্রশাসন এখন ইউনূসের ওপর রেগে আগুন। বাহিনী আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তারা অর্ধেক সেনাসদস্যকে প্রত্যাহার করে নেবে। সেটা তারা করেও ফেলেছে। আওয়ামী লীগের ডাকা শাটডাউন কর্মসূচির দিন পুলিশের কী ভূমিকা ছিল সেটা গোটা দুনিয়া দেখে নিয়েছে। ফলে, ইউনূসের এখন প্রধান অস্ত্র এই মৌলবাদী শক্তি। বিএনপি টের পেয়েছে যে এই মৌলবাদী শক্তির সমর্থনে দেশে এমন একটা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে, যার প্রভাব পড়বে ভোটে। অনেকটা সুকুমার রায়ের খাচ্ছে কিন্তু গিলছে না গোছের। বিএনপি ইউনূসের এই চাল বানচাল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তাই একদা শত্রু হাসিনার হাত ধরা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা নেই। সে কারণে দলের মহাসচিব আলমগীর ওই সব ভালো ভালো কথা বলেছেন।
ইউনূস যে জামাতের কথায় চলছেন, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা সব থেকে বড় প্রমাণ। তাছাড়া সরকারের একাধিক উপদেষ্টা তো জামাতপন্থী। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির নিশানা হয়ে উঠেছে সে দেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। নষ্ট হয়েছে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ। এই অবস্থায় ইউনূসের ক্ষমতায় টিকে যাওয়াটা বাংলাদেশের পক্ষে মোটেই শুভ হবে না সেটা এখন বিএনপি বেশ বুঝতে পেরেছে। তাই, আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁরা অনেক নমনীয় হয়েছে। আগামী দিনে তারা হাসিনার নৌকায় চড়ে বসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ রাজনীতিতে চিরকালের শত্রু আর চিরকালের মিত্র বলে কিছু থাকে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post