সেনাপ্রধান ওয়াকার আসলে কোনপক্ষের? হাসিনা না আমেরিকার? বাংলাদেশে নির্বাচনের মুখে এটা এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে চলেছে। এই বিতর্ক উস্কে দিয়েছে একটি বই, শিরোনাম ‘ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ : দ্য স্টোরি অফ অ্যান আনফিনিশড রেভ্যুলেশন’। বইয়ের কিছু অংশ মিডিয়ায় ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তাতে সেনাপ্রধান ওয়াকারের আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে। বইয়ের যা ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, এবং শেখ হাসিনা-র পতন এবং এই বিপ্লবের প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। বইটি যৌথভাবে লিখেছেন দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং শাহিদুল হাসান খোকন। এই বইতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দিতে কীভাবে ঘুঁটি সাঁজিয়েছিল আমেরিকা। পকেটস্থ করেছিল সেনাপ্রধান ওয়াকারকে। ওয়াকার আমেরিকার এই পরিকল্পনার কথা জানতেন। কিন্তু না হাসিনাকে সতর্ক করেছেন না তাঁর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে।
প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকার মাথার পোঁকা হঠাৎ কেন কিলবিল করে উঠল? আর কেনই বা তাদের নজর পড়ল বাংলাদেশের ওপর। দক্ষিণ এশিয়া তিনটি দেশ ভারত, চিন এবং বাংলাদেশের ক্ষমতায় যাঁরা রয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই শক্তিশালী। চিনে ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট শি। ভারতে নরেন্দ্র মোদি আর বাংলাদেশে হাসিনা। আমেরিকা ভারতকে অস্থির করে তোলার যে চেষ্টা করেনি এমনটা নয়। এমনকী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খুন করার পরিকল্পনাও তারা করে ফেলে। সেই ছক বানচাল হওয়ার পর তাদের নজর গিয়ে পড়ে বাংলাদেশের ওপর। বাংলাদেশে একটা অরাজকর পরিস্থিতি তৈরি করতে হলে প্রথমে যে সে দেশের সেনাপ্রধানকে পকেটে নিতে হবে সেটা আমেরিকা ভালো করেই জানত। তাই, তারা ওয়াকারের মগজধোলাই করে।
ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লির একটি অভিজাত হোটেলে বইয়ের ত্রয়ী লেখকের সঙ্গে কথা হয় হাসিনা আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের। তিনি দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার এবং শাহিদুল হাসান খোকনকে জানিয়েছেন, ‘আমরা জানতাম না যে সেনাপ্রধান ওয়াকারকে সিআইএ তাদের পকেটে ঢুকিয়ে নিয়েছে। ’ এই প্রসঙ্গে তিনি হাসিনার বাংলাদেশ ত্যাগের দিনটির কথা উল্লেখ করেন। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের হয়তো মনে আছে দেশ ছাড়ার সময় হাসিনা ফেসবুক লাইভে বলেছিলেন ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার আমেরিকার প্রভাবে কাজ করছে।’ ওই তিন লেখকের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, ‘এখন আপনাদের (ভারতের) গণমাধ্যম এই রিপোর্ট করছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের অনেক আগেই জানিয়েছিলেন, যে আমেরিকা চাইছে তাকে (হাসিনাকে) ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে। সেটা হলে তারা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কবজা করতে পারবে।’
ক্ষমতা থেকে হাসিনার সরে যাওয়ার সঙ্গে অভিমন্যুর মৃত্যুর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই তিন লেখককে তিনি বলেন, ‘আমরা সকলেই জানি অভিমন্যুর মৃত্যুর জন্য দায়ী কে বা কারা? সে যাদের বিশ্বাস করেছিল, তারাই তাঁকে হত্যা করেছে। হাসিনা যাদের বিশ্বাস করেছিলেন, তারাই হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। ’ এই প্রসঙ্গে তিনি আরও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য দিয়েছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে জামাত-ই-ইসলামির মধ্যে মতাদর্শগত দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। গত বছরের প্রথম দিকে এরা তাদের মতবিরোধ সরিয়ে দিয়ে কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করে। সে ক্ষেত্রে তারা সফল। এদেরও উদ্দেশ্য ছিল হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। আর তাদের মদত দিয়েছে বিদেশি শক্তি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post