হাসিনাকে কি ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ? সেটা আপাতত সময়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে তাঁকে ফিরে পেতে সে দেশের তদারকি সরকার চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি। ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রায় দিল, সেদিন থেকে বিদেশ মন্ত্রক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্তারা রিলে রেসের মতো দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। একজন ক্লান্ত হয়ে পড়লে আরেকজন দৌড়াচ্ছেন। হাসিনাকে হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের এই দৌড়ঝাঁপ থামবে না বলে মনে হয়নি।। এখন প্রশ্ন হল হাসিনাকে কি দিল্লি ঢাকার হাতে তুলে দেবে। ইতিমধ্যে সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। খলিলুরের যেদিন দিল্লি আসার কথা ছিল, তাঁর একদিন আগেই তিনি রাজধানী পৌঁছে যান। সাউথব্লক এখন নাকি তাঁকে নিয়ে রসিকতায় মজেছে। বলছেন, দিল্লি এসে চোখে-মুখে জলের ঝাঁপটা দিয়েই ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে বসে যান খলিলুর। কূটনৈতিক সূত্র উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, তদারকি সরকারের তরফ থেকে হাসিনাকে ফেরত চেয়ে সে দেশে ভারতীয় হাইকমিশনে পৌঁছে গিয়েছে। তবে দিল্লির কাছে আসেনি।
বুধবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার ফয়সাল মাহমুদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিঠি পৌঁছানোর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কূটনৈতিক বিভাগ থেকে প্রেস বিভাগে এখনও কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। তথ্য দেওয়া হলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা এর আগেও নোট দিল্লিকে নোট ভারবাল পাঠিয়েছিল। সেটা গত বছর ৫ অগাস্ট। সেই চিঠির কোনও জবাব দিল্লির তরফ থেকে ঢাকাকে দেওয়া হয়নি।
একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখা যাবে হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেদিন রায় ঘোষণা করেছিল, সেদিন থেকে তাঁর প্রত্যার্পণ নিয়ে পদ্মপারে যে ব্যস্ততা ছিল, সেই ব্যস্ততাই অনেকটাই যেন ছেদ পড়েছে। আর ডোভালের সঙ্গে খলিলুরের বৈঠকের পর ঢাকায় এক আশ্চর্য নীরবতা। তবে খালি বক বক করে যাচ্ছে একটাই লোক। তিনি হলেন তদারকি সরকারের আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আইসিটি যেদিন হাসিনা এবং আসাদুজ্জামানকে সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করেছে, সেদিন থেকে নজরুল খালি বকেই চলেছেন। ২১ নভেম্বর আবার তাঁর বকরবকর শোনা গিয়েছে। ওই দিন তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খানকে ফেরানোর জন্য ভারতকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তাদের দেশে ফেরানোর জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কোনো রকম ‘অ্যাপ্রোচ’ করা যায় কিনা, সে ব্যাপারে অচিরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারত কিন্তু একদম চুপ। আইসিটি-র রায় ঘোষণার দিন সাউথব্লক থেকে বলা হয় রায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে খলিলুর হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ডোভাল কিন্তু শান্তভাবে জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, তাদের কাগজপত্র পাঠাতে। সেই কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডোভাল ফিরে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক কিন্তু আশ্চর্যরকম চুপ। তাদের এই ভোলবদল ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাহলে কী ডোভাল তাঁকে এমন কিছু বলেছেন, যার মধ্য দিয়ে তিনি বোঝাতে চাইছেন বাংলাদেশ চুপ করে বসে থাকুক। আর সরকারের যে সব উপদেষ্টারা আবোলতাবোল বকছেন, তারাও যেন বেশি কথা না বলে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post