দুদিনের দিল্লি সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। কিন্তু একদিন বাড়িয়ে তিনদিনের ভারত সফর করে গেছেন তিনি। পাশাপাশি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে একটি ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে। এমনটাই সূত্র মারফত খবর। কিন্তু কীসের সময়সীমা? তবে কি যুদ্ধের হুমকি? এমন নানা প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে। পাশাপাশি যে সময় খলিলুর রহমান ভারত সফর করলেন সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। কারণ ঠিক তার আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফলে সবমিলিয়ে খলিলুর রহমানের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
খলিলুর রহমান ভারত সফরে এসে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে কি কি উঠে এল, তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। দু দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, নিরাপত্তাজনীত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সূত্র মারফত খবর, মূলত চারটি বিষয়ের উপর আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশে যে ধরণের কার্যকলাপ চলছে, জঙ্গিদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে, তাতে দুই দেশের জন্য নিরাপত্ত হুমকি হতে পারে। এমনকি ভারত যে খুব বেশি প্রভাবিত হচ্ছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেই সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশকে সাবধান করা হয়েছে ওই বৈঠক থেকে। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিষয় হিসাবে উঠে আসছে, তা হল, দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় যত তদন্ত এগোচ্ছে ততই একের পর এক বিষয় উঠে আসছে। দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনা জঙ্গ নাশকতা হিসাবেই দেখছে ভারত। তাতে যে তথ্য উঠে এসেছে, সেখানে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে, সে দেশে বসেই এই ছক কষা হয়েছে বলে প্রমাণ মিলছে। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি বা কূটনৈতিক ভাষায় ডসিয়ার তুলে দেওযা হয়েছে খলিলুর রহমানের হাতে। তৃতীয় বিষয়, সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টা বিভিন্ন সময় ভারতের স্পর্শকাতর এলাকা নিয়ে মন্তব্য করেছে। এই বিষয় থেকে যেন বিরত থাকে বাংলাদেশ। সেই বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে ওই বৈঠকে। অন্যদিকে শেষ বিষয়টি হল, জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের একটি বই প্রকাশ করা হয়েছে। যে বইয়ের মধ্যে একটি গ্রাফিতি দেওয়া হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের একটি ম্যাপ রয়েছে। যে ম্যাপে ভারতের কিছু অঞ্চল ঢুকিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে অবগত করা হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে। ফলে সবমিলিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠকে বাংলাদেশ যে চাপে পরল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর চাউর করছে, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর জন্য দরবার করেছেন খলিলুর। কিন্তু সেটা আতদে সত্য নয়। যেমনটা সূত্র মারফত খবর। তার কারণ ভারত থেকে একটি অনির্বাচিত সরকরের হাতে শেখ হাসিনাকে তুলে দেবে না, সেটা স্পষ্ট। যদিও শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা হতেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দফতর একটি চিঠি পাঠিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরকে। তাদের দাবি, হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু ভারত তার কোনও উত্তর দেয়নি বলেই খবর। অন্যদিকে গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে আশ্রয় নিলে বাংলাদেশ একাধিক চিঠি লিখেছে। কিন্তু ভারত কোনওবারই উত্তর দেয়নি। ফলে ভারতের কি অবস্থান শেখ হাসিনাকে নিয়ে, সেটা স্পষ্ট। এই আবহে যখন বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা দিল্লি সফরে এলেন, তখন প্রবলভাবে আলোচনা চলছিল, হাসিনাকে ফেরত নেওয়ার একটি পথ হয়ত বা তিনি প্রশস্ত করবেন। উল্টে দেখা গেল, চাপে পড়ে গেল বাংলাদেশ!












Discussion about this post