মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু শেখ হাসিনা তো ভারতে। কীভাবে হাসিনাকে ফেরত পাবে বাংলাদেশ? ইতিমধ্যেই হাসিনার প্রত্যপন নিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হচ্ছে তারা। কিন্তু কোনওভাবেই কি হাসিনাকে ফেরত সম্ভব বাংলাদেশের? হাসিনাকে ফেরাবে কীভাবে?ই ন্টারপোল নাকি স্পেশাল চুক্তি!
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশের জন্য প্রথম সুবিধা হল, এই দুটি দেশের মধ্যে প্রত্যপন চুক্তি। সেই চুক্তি অনুযায়ী হাসিনাকে ফেরত চাইতে পারে বাংলাদেশ। গত ডিসেম্বরে এই চুক্তি অনুযায়ী কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছিল ভারতের কাছে। কিন্তু কোনও উত্তর মেলেনি নয়া দিল্লির তরফে। এইবার উপায়? তবে এখন ধারণা করা যাক, কি এই প্রত্যপন চুক্তি? প্রত্যপন যোগ্য অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বা ফেরারী আসামি ও বন্দীদের একে অপরের কাছে হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে। যে চুক্তি হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেই চুক্তিতে বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তির নামে মামলা হয়ে থাকে অথবা তিনি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাকে ফেরত দেবে বাংলাদেশ বা ভারত। তবে এক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। যেমন অপরাধটি রাজনৈতিক প্রকৃতির হলে যে কোনও দেশ প্রত্যপনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। অর্থাৎ এখানে ভারত যদি মনে করে, এই দোষী সাব্যস্তটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, তারা অপরাধীকে প্রত্যপনের জন্য অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। এমনকি উপযুক্ত তথ্য, প্রমাণ দিতে হবে ওপর দেশকে। কিন্তু এক্ষেত্রে অপরাধীকে প্রত্যপনের জন্য অনেক বেশি কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। সেক্ষেত্রে এই চুক্তি খানিকটা সংশোধন করা হয়। সেই সংশোধনীতে বলা হয়, কোনও অভিযুক্তের হস্তান্তর চাওয়ার সময় অনুরোধকারী দেশকে সেসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাক্ষ্য প্রমাণ পেশ না করলেও চলবে। শুধু সংশ্লিষ্ট আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা পেশ করলেই অনুরোধ হিসাবে ধরা হবে। অপরাধীকে ফিরিয়ে আনার জন্যই ওই চুক্তিটি সহজ করা হয়েছে পরবর্তীকালে। কিন্তু এক্ষেত্রেও নির্বাচিত সরকার থাকতে হবে সে দেশে। আপাতত বাংলাদেশে এখন নির্বাচিত সরকার নেই। ফলে খুব সহজেই ভারত এটি এড়িয়ে যেতে পারে।
প্রত্যপনের চুক্তি ছাড়াও আরও একটি বিষয় দারস্থ হতে পারে অপর দেশ। সেটা হল ইন্টারপোলের সাহায্য নেওয়া। ইন্টারপোল হল আন্তর্জাতিক পুলিশি সংস্থা। বিশ্বের ১৯৬ টি রাষ্ট্র এর সদস্য। অপরাধী যখন সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেয়, তখন ওই দেশ ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হতে পারে। অপরাধীকে ধরতে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হতে যাচ্ছে বলে খবর।
এখন প্রশ্ন হল, ইন্টারপোলের সাহায্যে নিয়েও কি শেখ হাসিনাকে ফেরানো যাবে? তারা কি বুঝতে হবে ইন্টারপোল কিভাবে কাজ করে। দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীকে ধরতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নিতে হলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদের কাছে আবেদন করতে হবে ওই দেশকে। অর্থাৎ অপরাধীর ধরণ, বিচারের প্রক্রিয়া এবং আদালতের রায় সহ বিস্তারিত জানাতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি ইন্টারপোল মনে করে, তবে রেড নোটিশ জারি করতে পারে ইন্টারপোল। যদি রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে ওয়ান্টেড হয়ে গেল ওই ব্যক্তি। এখন প্রশ্ন হল, তবে কি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরানো যায়? এই প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না। কারণ রেড নোটিশ জারি করে অপরাধীর লোকেশন ট্র্যাক করা সম্ভব। কিন্তু তাকে আটক করে হস্তান্তর করা সম্ভব নয়। ইন্টারপোল এর সমস্ত সদস্যভুক্ত দেশ নিজেদের আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়। রেড নোটিশ মানে স্বয়ংক্রিয়, ফেরত নয়। অর্থাৎ যদি ইন্টারপোলের দারস্থ হয়ে বাংলাদেশ শেক হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেও থাকে, তবে ভারত এক্ষেত্রে নিজস্ব আইনি অনুযায়ী নেবে। এখনও পর্যন্ত ইন্টারপোলের রেট নোটিসের আওতায় বাংলাদেশের ৬০ জন ব্যক্তি রয়েছে। অর্থাৎ ইন্টারপোলের ওয়েট নোটিশের দ্বারা অপরাধীকে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা তৈরি করে। কিন্তু নিশ্চিত করে না। এই নিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তবে কি শেখ হাসিনাকে কখনওই ফেরত দেবে না ভারত? আসলে সেটা নির্ভর করছে ভারতের কূটনৈতিক ক্ষেত্রের উপর। শেখ হাসিনাকে যদি ফেরত দেওয়া হয়, তবে বাংলাদেশের নতুন করে সহিংসতা তৈরি হতে পারে। এমন কারমে দেখাতে পারে ভারত। এখন দেখার, আসলে ভারত পথে হাঁটে।












Discussion about this post