ইউনূস বুঝে গিয়েছেন তাঁর বিদায় নিশ্চিত। সেটা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে হতে পারে। অথবা তাঁর আগেই। আন্তর্জাতিকমহল থেকে এমনভাবে তাঁর ওপর চাপ তৈরি করা হবে যাতে তিনি তদারকি সরকার প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেন। সেটা তিনি নিজেও বুঝতে পেরেছেন। তাই তিনি এমন একটি পদক্ষেপ করলেন, যা কোনও দেশের সরকার প্রধান করে না। বাংলদেশের নোবেল ম্যান গোপন চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বন্দরের সাতটির মধ্যে পাঁচটি বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দিলেন। যার অর্থ আগামীদিনে এই বন্দরের ওপর সরকারের আর কোনও নিয়ন্ত্রণ রইল না। তারা তাদের মর্জি মতো ফি ও মাশুল আরোপসহ যে কোনও ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে। বন্দরের মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালের মধ্যে পাঁচটি বর্তমানে বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। শুধু জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনালের (সিটিসি) দায়িত্বে রয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠন। যেটা আরও বেশি করে চোখে পড়ছে তা হল এই চুক্তি হয়েছে ১৭ নভেম্বর। ওই দিন বাংলাদেশ সহ গোটা দুনিয়ার নজর ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাব্যুনাল বা আইসিটি) দিকে। ওই দিন হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ঘোষণা করে আইসিটি। চট্টগ্রাম বন্দরের সব চেয়ে বড়ো টার্মিনালটি হল বে টার্মিনাল। এই মেগাপ্রকল্পের জন্য দুটি অংশের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে আবুধাবির ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল। পতেঙ্গা টার্মিনালের দায়িত্বে রয়েছে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি)। অবৈধ সরকারের বিষনজর গিয়ে পড়েছে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের দিকে। জানা গিয়েছে, তদরকি সরকার চাইছে এই বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব আবুধাবির ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিতে চাইছে।
সব থেকে বিতর্ক তৈরি হয়েছ, লালদিয়া চর কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে। এই বন্দর নিয়ে চুক্তি হয়েছে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে। চুক্তির মেয়াদ ৪৮ বছরের। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ড। চুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে,তা কিন্তু ইউনূস সরকার জানায়নি। চুক্তিটিকে ৩৩ বছরের মেয়াদি বলা হলেও আরও চুক্তির মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়িয়ে নেওয়ার সংস্থান রয়েছে। এদিকে, পিটিসি (পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল ) তুলে দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের আরএসজিসিটিকে। বলা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে তাদের বাড়িত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরকারের আয় ৮০ থেকে ৯০ ডলার হলেও পিটিসিতে আরএসজিটি মাত্র ১৮ ডলার দেবে।
চট্টগ্রাম শ্রমিক ঐক্য কর্মচারী পরিষদের নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপে রীতিমতো ফুঁসছে। সংগঠনের যুগ্ম সমন্বয়ক রিজওয়ানুর রহমান খান সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সরকার যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে ২২ নভেম্বর থেকে হরতাল ও ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোড অবরোধ সহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ’ তিনি কাটা কাটা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘শ্রমিক-কর্মচারি, ব্যবসায়ী সমাজ ও দেশবাসীর ন্যায্য দাবিদাওয়া উপেক্ষা করে সরকারের এই গণবিরোধী নীতি এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পাদিত চুক্তি বাংলাদেশের মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। অবিলম্বে লালদিয়া এবং পানগাঁও টার্মিনালের চুক্তি বাতিল করতে হবে। ’
বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, ‘বিদেশি কম্পানির কাছে ইজারা না দিয়ে স্থানীয় বা বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে বন্দর নিজেই টার্মিনাল পরিচালনা করলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশেই থাকত।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post