বাংলাদেশে ফিরল ভারতের ১৯৭৫-য়ের ২৫ জুন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে তখন ইন্দিরা গান্ধি। দেশে জারি করা হয় জরুরী অবস্থা। সরকার বিরোধী খবরের প্রচার বন্ধ করতে গণমাধ্যমের গলায় তিনি শৃঙ্খল পরিয়ে দিয়েছিলেন। তার জন্য পরবর্তী কালে তাঁকে খেসারতও দিতে হয়। বহুবছর বাদে একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। সেই সাক্ষাৎকারে জরুরী অবস্থা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় – ‘হোয়াই ইট ইজ নেসেসারি মিসেস গান্ধি টু ফরবিড নিউজ পেপার টু রিপোর্ট দ্য স্পিচেজ অব এমপিজ?’ (কেন মিসেস গান্ধি আপনি খবরের কাজে সাংসদের বক্তব্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিলেন।)’ ইন্দিরার জবাব ছিল ‘ইট ওয়াজ জাস্ট ফর এ ভেরি লিমিটেড পিরিওড। অ্যান্ড আই থিঙ্ক সেন্সরশিপ ওয়াজ নট প্রপার্লি ম্যানেজড।’ (সেটা সাময়িক সময়ের জন্য করা হয়েছিল। আর আমার মনে হয় সেন্সরশিপ ঠিক মতো কার্যকর করা হয়নি। )
সেই কালো ছায়া আরও ঘনকালো হয়ে এবার বাংলাদেশে। তদারকি সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে হাসিনাকে নিয়ে কোনও খবর কোনও গণমাধ্যমেই প্রকাশ করা যাবে না। সেটা করা হল সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। গত সোমবার, ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা থেকে একটি হুলিয়া জারি করা হয়েছে। নির্দেশ সব ধরনের গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকী সমাজ মাধ্যমকেও এই নির্দেশিকার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের তালিবানি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘বিগত কয়েক মাস ধরে দেখা গিয়েছে বাংলাদেশে বেশ কিছু গণমাধ্যম দোষী এবং পলাতক হাসিনার বিবৃতি সহ খবর প্রকাশ করছে। এই ধরনের খবরে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে। হাসিনার বিবৃতিতে এমন কিছু থাকতে পারে যা বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলবে। সেই বিবৃতি নির্দেশনামূলক হতে পারে। সেই বিবৃতি বাংলাদেশে হিংসাত্মক ঘটনা ঘটাতে পারে। ওই সব বিবৃতির কারণে দেশে অপরাধ বা অসামাজিক কাজকর্ম বৃদ্ধি পেতে পারে। আমরা সব গণমাধ্যমকে অনুরোধ করছি, তারা যেন তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে।’ বাংলাদেশের সব গণমাধ্যমকে সতর্ক করতে গিয়ে এই কালো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘যদি দেখা যায় কোনও গণমাধ্যম এই আদেশ মানছে না মেনে তারা তাদের মতো করে কাজ করছে আর সেই সব কাজ জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেবে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাবে, দেশে জাতিগত বিদ্বেষ বা অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ তৈরি করতে পারে সে ক্ষেত্রে ওই গণমাধ্যমকে ব্লক করে দেওয়া হবে। ’ ফতোয়ার শেষ এখানেই। বলা হয়েছে ভূয়ো পরিচয় দিয়ে কেউ যদি উপরোক্ত বিষয়ের ওপর খবর করে, তাহলে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা তাদের চিহ্নিত করবে। তাদের সর্বোচ্চ দু বছরের জন্য জেল/ অথবা ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। কোনও ক্ষেত্রে জেল ও জরিমানা দুটোই কার্যকর করা হবে।
এই প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর বলছেন, ‘আমরা একটা ট্রানজিশনাল পিরিয়ডে আছি। একটা দোলাচল চলছে। নির্বাচনের সময় ঘোষণা হয়েছে। এখনও শিডিউল হয়নি। হবে আশা করছি। নির্বাচন কিন্তু সব শেষ নয়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা ডেমোক্র্যাসিতে ফিরে যাওয়া এবং ডেমোক্র্যাটিক কালচার গড়ে তোলা – এটাই সব চেয়ে বড় অভাব। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post