একটা অপরাধ করলে না হয় বলা যেত – বাচ্চা ছেলের মতো না জেনেশুনে এমন কাজ করেছেন। কিন্তু অপরাধ তো একটা নয়। এই গত ১৪ মাসে এত অপরাধ করেছেন তার তালিকা তৈরি করতে হলে কত মন কাগজ লাগবে তা বলা মুশকিল। প্রথম অপরাধ হাসিনার সঙ্গে বেইমানি। বঙ্গবন্ধু কন্যা না থাকলে তিনি সেনাপ্রধানের কুর্সিতে জীবদ্দশায় বসতে পারতেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি আবার হাসিনার নিকট আত্মীয়। যাঁর খেয়েছেন, তাঁকেই বধ করেছেন।
দ্বিতীয় অপরাধ মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে বাহিনী কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের একটা অবৈধ আদালতে তোলার রাস্তা করে দিয়েছেন। তাঁদের বিচারের আওতায় এনেছেন। এমনকী তাঁদের জেলের ভাত খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। হাসিনার আমলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তো পরের কথা, কোনও ছোটখাটো মন্ত্রী বা সেনাকর্তারা বাংলাদেশ যাওয়ার আগে একাধিকবার ভাবতেন। এখন আর তাঁদের ওসবের দরকার পড়ে না। মনে হলেই তাঁরা চলে যান। সঙ্গে আবার নিয়ে যান পাক গুপ্তচর সংস্থার সুবোধ বালকদের কয়েকজনকে।
এই যে কিছুদিন আগে দিল্লিতে হামলা হল, সেই হামলার সঙ্গে তো পাকিস্তানের জঙ্গিরা জড়িত। তারা ব্যবহার করেছিল বাংলাদেশের মাটি। সেনা বা সরকারের প্রচ্ছন্ন মদত না থাকলে তারা এটা করতে পারত? কখনই নয়। বাংলাদেশের মাটি এখন জঙ্গিদের চারণভূমি। গোরু-ছাগল যেভাবে খোলা মাঠে আপন মনে ঘুরে বেড়ায়, লতা-পাতা চিবোয় আর মাথা নাড়ে, পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা এখন মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশে চলে যায়। সেখানে কিছুদিন থেকে দিনে পদ্মার ইলিশ দিয়ে চেটেপুটে ভাত আর রাতে কাবাব আর বিরিয়ানি খেয়ে ফিরে আসে। শোনা যাচ্ছে সেনাপ্রধান ওয়াকারও নাকি তাদের সঙ্গে ডন-বৈঠক করেন। ডন বৈঠক বলতে কিন্তু আবার গাত্রমর্দন বুঝবেন না। এখানে ডন –বৈঠক বলতে আড্ডা মারতে মারতে খাওয়া আর খেতে খেতে আড্ডা দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
শুক্রবার ছিল বাংলাদেশের সেনাদিবস। সেদিন দেখা গেল সে দেশের শান্তিকাকু আর সেনাপ্রধানের কী গলায় গলায় ভাব। শান্তিকাকু মানে ইউনূস সাহেব ওয়াকারের গলায় মেডেলের মালা পরিয়ে দিলেন। ওয়াকারের মুখে কী হাসি। স্নো-পাওডার মুখে মাখলেও ওমন চকচক করে না। এত চকচকে লাগছিল। ক্যামেরার সামনে তাঁরা দাঁড়ালেন। ফ্ল্যাশবাল্বের আলো জ্বলে উঠল। শব্দ শোনা গেল ক্লিক ক্লিক ক্লিক ক্লিক ক্লিক ক্লিক। মানে ছবি তুললেন। এই ছবি সত্যি বাঁধিয়ে রাখার মতো। কতদিন বাদে ওয়াকারকে দেখা গেল প্রকাশ্যে। এতোদিন যা নিয়ে সন্দেহ ছিল যে ওয়াকার বোধহয় ওয়াক ওয়াক (আবার বমির কথা ভেবে বসবেন না। এটা হাঁটার কথা বলা হচ্ছে। করতে করতে অন্য কোনও দেশে চলে গিয়েছেন। না তিনি দেশেই আছেন। সেনাদিবসে ঘরে বসে থাকা যায়? লোকে কী বলবে?। সেটা ভেবেই হয়তো বাড়ি থেকে বেরিয়ে সেনাকুঞ্জে গিয়েছিলেন। সেনাকুঞ্জে গেলেন। ইউনূসের দিকে গলা বাড়িয়ে দিলেন। মেডেল পরলেন। হ্যান্ডশেক করলেন। গোটা বাংলাদেশ সেই ছবি দেখল। দেখল ইউনূসের জামাতপন্থী লোকজন। তারা তো আর সেনাকুঞ্জে যেতে পারেনি। তাই, বোকার বাক্সে হাবার মতো বসে ওই দৃশ্য গিলেছে। দিয়েছে তালি। আর বলেছে কেয়া বাৎ।
সত্যি তো তাদের উচ্ছ্বাস হওয়ারই কথা। দুয়ে-দুয়ে চার হয়েছে। যোগে বিন্দুমাত্র ভুল নেই। এখন দেখার এই যোগ এবং যোগাযোগ কতদিন থাকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post