গত বছর জুলাই-আগস্টের ছাত্র বিক্ষোভের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। এই আদেশ দিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল। এ রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।পাশাপাশি এই রায়কে গত বছর বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলেও আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। এবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করার জন্য নির্দেশনা দিল স্বয়ং জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিয় গুতারেস। এমনটাই জানা যাচ্ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দফতরের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, “আমরা সকল পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহারের বিরুদ্ধে”।
ডুজারিক জাতিসংঘের মানবাধিকার হাই কমিশনার ভলকার টার্কের একটি বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলেন যে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতার সাথে “আমরা সম্পূর্ণ একমত”। তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাকে ভলকার টার্কের অফিস যা বলেছে তা উল্লেখ করতে চাই, যে আজকের রায় গত বছর বাংলাদেশে বিক্ষোভ দমনের সময় সংঘটিত গুরুতর লঙ্ঘনের শিকারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তবে এই আদালতটি মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যাকারী পাকিস্তানি এবং তাঁদের বাংলাদেশি সহযোগীদের বিচারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা নিজেই এই আদালত তৈরি করেন। জাতিসংঘের তরফে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে স্থানীয় একটি আদালত, যা শুধুমাত্র বাংলাদেশি বিচারকদের সমন্বয়ে গঠিত। নিজেদেরকে “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল” হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে “মানবতাবিরোধী অপরাধের” জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। এই বিচার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে হয়নি বলেও মত দিয়েছে জাতিসংঘ। এই আবহেই জানা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে শক্তিশালী করার জন্য ১৯ নভেম্বর দুই তাবড় ব্রিটিশ আইনজীবী ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই রায়ের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই মামলার তদন্ত করছে। জানা যাচ্ছে, টবি ক্যাডম্যান এবং আনাস্তাসিয়া মেদভেস্কায়া নামে দুই ব্রিটিশ আইনজীবী যুক্তরাজ্য থেকে দুবাই হয়ে ঢাকায় আসেন এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে। এরমধ্যে ক্যাডম্যান হলেন আইসিটি প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের একজন বিশেষ উপদেষ্টা। মেদভেস্কায়ার প্রত্যর্পণ মামলাতে তাঁর বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। উল্লেখ্য, টবি ক্যাডম্যান দ্য গুয়ের্নিকা গ্রুপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং লন্ডনে গুয়ের্নিকা ৩৭ ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস চেম্বার্সের প্রধান। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ও মানবিক আইন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রত্যর্পণ এবং মানবাধিকার আইনের একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। অপরদিকে আনাস্তাসিয়া মেদভেস্কায়ার একজন আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ। তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের সামনে মামলায় রাশিয়ান ফেডারেশনকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। একজন প্রত্যর্পণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপক্ষ এবং প্রতিরক্ষার পক্ষে কাজ করেন। মনে করা হচ্ছে, এই দুই ব্রিটিশ আইনজীবীকে আনা হয়েছে ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা যায়, আওয়ামী লীগও লন্ডনের বিখ্যাল ল ফার্ম ডাউটি স্ট্রিটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post