দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে ছুঁটেছিলেন স্বয়ং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। আপনারা হয়তো ভাবতেই পারেন ভূটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মুহাম্মদ ইউনূস বিমানবন্দরে আসতেই পারেন, রাষ্ট্রপ্রধানকে সম্মান জানানোর একটা প্রথা তো আছেই। কিন্তু আপনারা একবার মনে করে দেখুন মুহাম্মদ ইউনূস বিগত ১৫ মাসে যে ১৪টি বিদেশ সফর করেছেন, সেখানে সেই সব দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে ছুটে এসেছিলেন কি না। কিন্তু আমরা দেখলাম, ভূটানের মতো ছোট্ট একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে চলে এলেন মুহাম্মদ ইউনূসের মতো বিশ্ববিখ্যাত নোবেলজয়ী। এবার আসা যাক মোদ্দা কথায়। দিল্লি বিস্ফোরণের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভূটানে ছিলেন। সেখানে তিনি দু-দিন নানা বৈঠক করেন, এরমধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গেও একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন। তারপরই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এলেন বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ এবং কূটনৈতিক মহলের অনেকেই এই ঘটনার মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। কারণ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার দফতর বলছে, শনিবার বাংলাদেশ ও ভুটানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দুই সরকারপ্রধান একান্ত বৈঠক করেন।
এবার আসা যাক ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের যে বৈঠক হয়েছিল সেটা সম্পর্কে। জানা গিয়েছে গত বুধবার ওই হাই প্রোফাইল বৈঠকটি হয় দিল্লির প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। জানা যাচ্ছে প্রথমে ডোভাল ও খলিলুরের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সেখানে খলিলুর ছাড়াও বাংলাদেশের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ওই বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ে ওই বৈঠকে উপস্থিত হন ওই বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অথবা তাঁর কোনও প্রতিনিধি এবং ভারতীয় সেনার কয়েকজন শীর্ষ কর্তাও। জানা গিয়েছে, খলিলুর রহমান ও অজিত ডোভালের মধ্যকার এই বৈঠকে জঙ্গিবাদ দমন এবং শেখ হাসিনার বিচার ইস্যুতে ভারতের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। যা কার্যত আল্টিমেটামের রূপ নিয়েছে। এই আল্টিমেটাম আসলে মুহাম্মদ ইউনূসের জন্যই। যা যে ইতিমধ্যেই খলিলুর রহমান প্রধান উপদেষ্টার নিকট পৌঁছে দিয়েছেন। যেটা জানা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফেই ইউনূসকে চরম বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারত যে এবার অনমনীয় মনোভাব নিতে চলেছে সেটা আগেই বোঝা যাচ্ছিল। বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতে সন্ত্রাসবাদের বীজ বোনার যে চেষ্টা চলছে, সেটা ভারত অঙ্কুরেই বিনাশ করতে চায়। আর এর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই দরকষাকষি চলছিল। এবার যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের পররাষ্ট্র নীতি পরিবর্তন করতেই ভারত অগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভূটান এখানে নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। আপনাদের মনে থাকবে, ১৯৭১ সালে ভূটানই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আর তা করেছিল ভারতের নির্দেশেই। এর পরেও আমরা বহুবার দেখেছি ভূটান বরাবরই ভারতের বিদেশনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে। এবারও নরেন্দ্র মোদির ভূটান যাত্রা এবং তার পর ভূটানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে আসার মধ্যে একটা মিল পাওয়া যাচ্ছে। সবমিলিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের বিদায় ঘণ্টা বাজতে চলেছে এ কথা বলাই বাহুল্য।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post