ভারতের সঙ্গে আমেরিকার দূরত্ব কমানোর দায়িত্ব দিয়ে সারজিও গরকে ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত করে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি এখনও চাইছেন ভারত আমেরিকার চাপের কাছে মাথা নত করুক। শুধু তিনি নন, ডিপস্ট্রেটের জর্জ সরস গ্যাঙও চাইছিল ভারতের বাজার,রাজানীতি এবং অর্থনীতিকে দখল করতে। কিন্তু ভারতের গনতন্ত্র এবং বহুমুখী রাজনীতির কারণে তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়নি। কিন্তু চাপ দিয়ে যখন ভারতকে দমানো গেল না তখন আবার বন্ধুত্ব্যের সম্পর্ককেই নতুন করে মাত্রা দিতে সারজিও গরকে দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ এশিয়াতে ভারতের বাজার এবং অর্থনীতি থেকে নিজেদের দুরে রাখা মানে আমেরিকারই ক্ষতি। তাই ভারতকে মোস্ট ফেবার নেশন উল্লেখ করে ট্যারিফে বড় রকমের ছাড় দিতে চলেছেন ট্রাম্প। ফলে ভারত বাংলাদেশের জাতীয় নিরপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের দ্বিতীয় পর্যায়ে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের ব্যক্তিরা যুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে এই বার্তাটি দিতে চেয়েছিল যে এই অঞ্চলে ভারত এবং আমেরিকা কোন রকম জঙ্গী কার্যকলাপকে সমর্থন তো করবেই না। কারণ উগ্রপন্থা দমনে ভারত আমেরিকা বহুদিন ধরে এক সঙ্গে কাজ করে আসছে। অর্থাৎ এই আঞ্চলে ভারত এবং মার্কিণযুক্তরাষ্ট্র উভয়ে শান্তি রক্ষায় যৌথ অংশিদার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে ভারতের নিরপত্তার জন্য কোন ঝুঁকি তৈরী করলে আমেরিকার স্বল্প সমর্থনটুকুও হারাবে তারা। মার্কিণ রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি খলিলুরের উপর এতটাই চাপ বৃদ্ধি করে যে, পরের দিনই কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভের বৈঠক, খলিলুর সাহেব বলতে বাধ্য হন যে বাংলাদেশও বিভিন্ন জঙ্গীবাদের স্বীকার হয়েছে। এবং অনেক জঙ্গীদের বিচার করে জেলবন্দী করা হয়েছে। অথচ এই জঙ্গীদমন এবং বিচার হয়েছিল হাসিনার আমলে।ইউনূসের সরকার এসে তাদের ছেড়ে দেয় এবং বলে বাংলাদেশে কোন জঙ্গীবাদ নাই। শেখ হাসিনার সময়ে যা কিছু হয়েছে সেগুলি সাজানো নাটক। অথচ জঙ্গীবাদ নিয়ে নিজেদের মুখ বাঁচাতে হাসিনার আমলের সেই ঘটনাগুলিকেই ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে হয়েছে। এবং খলিলুর সাহেব বলতে বাধ্য হয়েছেন যে বাংলাদেশ তাদের ভূখন্ড ব্যবহার করে কোন জঙ্গী কার্যকলাপ ঘটাতে দেবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স দেখাবে। আর এই প্রতিশূতিই চাইছিল ভারত। কারণ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদী কার্য কলাপের বহু তথ্য প্রমান ভারতের হাতে আছে। মার্কিনদূতরাও খলিলুর সাহেবকে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের মাটিকে ব্যবহার করার জন্য কোন জঙ্গী গোষ্ঠী বা কোন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে নিজেদের মাটি উন্মূক্ত করে দেওয়া উচিৎ হবে না। বাংলাদেশ হয়তো অবাক হচ্ছে যে, হঠাৎ আমেরিকা কেন ভারতের হয়ে ওকালতি করছে। আসলে বেশ কিছু দিন ধরেই ভারত আমেরিকার সম্পর্ক নতুন করে মোড় নিতে শুরু করেছে। যে রাজানাথ সিং ইউনূস সাহেবকে সমঝে কথা বলতে বলেছিলেন, সেই রাজনাথ সিং মানে ভারতের সঙ্গে মার্কিন সরকারের দশ বছরের মেয়াদে প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই হয়েছে। ভারত এবং মার্কিনযুক্ত রাষ্ট্র কাছাকাছি আসতে বাধ্য হয়েছে, কারণ তারা দুই দেশই চাইছে এই ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে। সেই কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ট্রাম্প দায়িত্ব দিয়েছেন চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের মাখামাখি কমানোর। কিন্তু বাংলাদেশ পাকিস্তানের পথেই হাঁটতে চাইছে, পাকিস্তানের যেমন আশি শতাংশ যুদ্ধ সরাঞ্জাম চিনের,থেকে কেনা,তেমন বাংলাদেশও চিন থেকেই যুদ্ধাস্ত্র কেনার জন্য ঝুকেছে। আর এই সব দেখে ক্ষুব্ধ আমেরিকা। যে কারণে অজিত ডোভাল এবং খলিলুর সাহেবের বৈঠকে শুধু মার্কিণ রাষ্ট্রদুত পর্যায়ের ব্যক্তিরাই নয়, মার্কিন সামরিক কর্তারাও উপস্থিত থেকে এটা বোঝাতে চেয়েছন যে ভারতের সীমান্ত ঘেঁসে বাংলাদেশ পাকিস্তান এবং চিনের যে তৎপরতা তা ভালো চোখে দেখছে না ভারত আমেরিকা দুই দেশই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post