দিল্লির লাল কেল্লার অদূরে বিস্ফোরণের নিন্দা করলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তিনি সেটা করলেন দিল্লিতে বসেই। খলিলুর রহমানের এই দিল্লি সফর অত্যন্ত রহস্যে ঘেরা একটি সফর। তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে ‘কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ’ নামে এক আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছিলেন। সে কারণে তাঁকে নয়া দিল্লির অভিজাত পাঁচতারা হোটেল মৌর্য শেরাটনে থাকার ব্যবস্থা করেছিল সম্মেলনের আয়োজকরা। কিন্তু জানা যাচ্ছে তিনি সেখানে না থেকে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লার বাসভবনে। এও জানা যাচ্ছে, এই সফরের পুরো অংশেই খলিলুরের সাথে ছায়ার মতো লেগে ছিলেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। এটাও কম রহস্যের নয়। এটাও জানা যাচ্ছে, দিল্লি যাওয়ার আগে খলিলুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তিনি যাতে এই সম্মেলনের বাইরে অন্য কোনও বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করেন। আবার সেখান থেকেই বাংলাদেশের হাইকমিশনারের কাছে নির্দেশ এসেছিল তিনি যাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে সর্বক্ষণ আগলে রাখেন। অর্থাৎ, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে নিয়েই নিরাপদ নয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশের বিবৃতি অনুযায়ী দিল্লির নিরাপত্তা সম্মেলনে খলিলুর রহমানের দুই দিনের অংশগ্রহণের কথা ছিল। তবুও এমন প্রমাণ রয়েছে যে সম্মেলনটি ২০ নভেম্বর শুরু হয়েছিল এবং শেষ হয়েছিল। তাহলে, ১৯ নভেম্বর খলিলুর রহমান কী করেছিলেন? সূত্র অনুযায়ী, খলিলুর রহমান একদিন আগে অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতেই দিল্লি পৌঁছে যান। এবং বুধবার অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করেন। জানা যাচ্ছে দুই প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। যেমন মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে কারাগার থেকে দোষী সাব্যস্ত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দিয়ে দেওয়া, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সন্দেহভাজন চরমপন্থীদের আস্তানা, বিশেষ করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় ক্রমবর্ধমান ইসলামপন্থীদের প্রভাব এবং বাংলাদেশে মৌলবাদী কার্যকলাপের উত্থান। এর পাশাপাশি দিল্লি বিস্ফোরণে বাংলাদেশের যোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে ওই হাই প্রোফাইল বৈঠকে। এ ক্ষেত্রে উল্লেথ করা যেতে পারে যে, গত ১৪ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি দল বাংলাদেশে ছিল। সেই দলটি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স, আর্মি এভিয়েশন গ্রুপ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের প্রধানদের সাথে দেখা করেছে বলে জানা গিয়েছিল। এর মধ্যে ১৬ অক্টোবর ভারতীয় এমআই টিম জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এবং অন্যান্য বাংলাদেশী সেনা কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থান যেমন লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও এবং সৈয়দপুর এবং নীলফামারীতে আকাশপথে সফর করেছিলেন। ভারতের একজন মেজর জেনারেলের নেতৃত্বে সফরকারী সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের দলটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের কাছে একটি ডসিয়ারও হস্তান্তর করেছিলেন বলেই জানা যায়। যার মধ্যে উগ্রপন্থী কার্যকলাপে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম এবং ভারতের উদ্বেগজনক ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডোভাল ও খলিলুরের মধ্যে বৈঠকে সেই তালিকা নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই ভারতের তরফে কি চাওয়া হচ্ছে সেটাও সবিস্তারে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও কিছু তথ্যপ্রমান, স্যাটেলাইট ইমেজিং, কল রেকর্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খলিলুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ডোভাল ও খলিলুরের বৈঠকে মূলত সন্ত্রাসরোধে দুই দেশের যৌথ সমন্বয় এবং স্থল ও সমুদ্রপথে জঙ্গি ও মাদকচক্র নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে, দিল্লি বিস্ফোরণের পাশাপাশি মাস কয়েক আগে মুর্শিদাবাদে যে দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, সেখানেও বাংলাদেশের জঙ্গিগোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সম্পৃক্ততার প্রমান তুলে দেওয়া হয়েছে খলিলুরের হাতে। সবমিলিয়ে ঢাকার হাতে এখন সাতদিনের সময় আছে। এরপর ভারত নিজের মতো করে ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post