প্রায়শই তিনি খবরের শিরোনামে আসেন। তাঁর বক্তব্যে তুমুল চর্চা তৈরি হয় দেশে। আবার উধাও হয়ে যান তিনি। ফিরে আসেন ফের নতুন বক্তব্য নিয়ে। আসলে কথা হচ্ছে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে। আবার তিনি একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলছেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আদেও কি সেটা ঘটছে বাংলাদেশে? সেনাবাহিনী কি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মেনে কাজ করছে? সেই আদর্শে আদর্শিত তারা? তারা ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারে বাংলাদেশের রাস্তায় রয়েছে। আদেও কি মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথ তারা অনুসরণ করে? ইউনূসের বেসুরে সেনাপ্রধান?
রবিবারে সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সশস্ত্র বাহিনী দিবস। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বহু সেনাকর্তা ও উচ্চ সেনা কর্তারা। তাঁদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। সেনাবাহিনী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিরক্তপূর্ণ কাজ ও বাহিনীতে অসামান্য অবদানের জন্য ৬৪ সেনা সদস্যকে পদক এবং ৭৫ জন মুক্তি যোদ্ধা পরিবারকে সম্মান জানান হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ক্যাটাগরিতে তিনজনকে মরণোত্তর সেনাবাহিনী পদক দেওয়া হয়েছে। সেখানেই উপস্থিত হয়েছিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। সেখানেই তিনি এমন মন্তব্য করেন। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার-সহ সমস্ত কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি। সেনাপ্রধান উল্লেখ করেন, সামনে দেশে নির্বাচন রয়েছে। এই নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতার কথা তিনি বলেন। পাশাপাশি সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাহায্যের কথাও বলেন তিনি। এছাড়াও তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথে হাঁটবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের কথা তিনি বলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গত বছর অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের পর দেশে যেমন অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক একইভাবে দেশে প্রবলভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে জিগির তোলা হয়েছে। ভাঙা হয়েছে শহিদ মিনার। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মুজিবনগরে স্বাধীনতার ভাস্কর্যগুলিকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এছাড়াও মহান মুক্তিযুদ্ধের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর আত্মরসমর্পণের দলিলকে পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এরকম ঘটনা যেমন দেখা গিয়েছে দেশের অন্দরে, অন্যদিকে বহু মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতোর মালা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সাবেক নির্বাচন কমিশনার তাঁকে গ্রেফতারের পর তার গলায় জুতোর মালা পরানো হয়েছে। যদিও পরে মবকারীদের গ্রেফতার করে সেনাবাহিনী। এই একটি ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে দেখা গিয়েছে লক্ষ্যনীয়ভাবে অ্যাকশন নিতে। কিন্তু অন্য ক্ষেত্রে তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। আর তা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। আরও প্রশ্ন উঠছে, যখন সেনাপ্রধান মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শে আদর্শিত ঙওয়ার কথা বলছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডি বাড়ি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল তৌহিদী জনতা। তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, এটা আওয়ামী লীগের প্রতি একটি গভীর ক্ষোভ। কোনও পদক্ষেপ করেনি সেনা প্রধান বা সেনাবাহিনী। ১৭ ই নভেম্বর শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার দিন ফের ওই ৩২ নম্বর বাড়ির বেঁচে থাকা একাংশে তান্ডব চালাতে যায় একদল জনতা। তখন সেনাবাহিনী তাদের আটকেছে। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সক্রিয় হওয়ার কারণ কি? কারণ এটাই, এর আগে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙার ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দা জানিয়েছিল। সেই বিতর্কিত বিষয়ে এড়াতে সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে সেনাবাহিনীকে বহু রাজনৈতিক দলের নেতারা কুরুচিকর মন্তব্য করেছে। পাশাপাশি এমন কিছু মন্তব্য করেছে, যেগুলি সেনাবাহিনীর প্রতি অসম্মানজনক। এই পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানের কথায় কতটা প্রভাব পড়ে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post