হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কি শাস্তি দিয়েছে, তা আমাদের সকলের জানা হয়ে গিয়েছে। বলা হচ্ছে এই রায় আগে থেকেই লেখা হে গিয়েছিল। শুধুমাত্র সরকারিভাবে ঘোষণা বাকি ছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এই রায় নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। তাদের মতে, এই রায় আসলে হাসিনার বিরুদ্ধে নেওয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নামান্তর মাত্র। কারণ, এই আদালতেই হাসিনা আমলে মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের বিচারের আওতায় এনে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
রায় ঘোষণা হয় ১৭ নভেম্বর। আর ঠিক তার আগের দিন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের বলেছিলেন, তার মা এবং তাঁর মায়ের শাসনামলে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের কী শাস্তি হতে চলেছে, সেটা তিনি জানেন। এই ক্যাঙারু আদালত তাদের যে সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে, সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন। ৭১-য়ের মুক্তিযোদ্ধা বিরোধীদের শাস্তি জামাত এখনও মেনে নিতে পারেনি। তারা প্রথম থেকেই হাসিনার বিরুদ্ধে সরব ছিল। তারা চেয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত হাসিনা এবং তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করুক। তাই, রায় ঘোষণার দিন তারা সব থেকে বেশি খুশি হয়েছিল। এই রায়ে তারা তাদের জয় দেখতে পেয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে হাসিনাকে কি ভারত ফেরত দেবে? রায় ঘোষণার পরে পরে ভারতের বিদেশমন্ত্রক থেকে দেওয়া হয়েছিল কৌশলী বার্তা। বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রায় ভারত খতিয়ে দেখছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করল? আসলে ঢাকা সাউথ ব্লকের ওপর কূটনৈতিকভাবে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে। আইসিটি বাংলাদেশবাসীকে এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে একজন মৃত্যুদণ্ডাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ভারত নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে দিয়েছে। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার ফয়সাল মাহমুদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে চিঠি পৌঁছানোর বিষয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কূটনৈতিক বিভাগ থেকে প্রেস বিভাগে এখনও কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। তথ্য দেওয়া হলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা এর আগেও নোট দিল্লিকে নোট ভারবাল পাঠিয়েছিল। সেটা গত বছর ৫ অগাস্ট। সেই চিঠির কোনও জবাব দিল্লির তরফ থেকে ঢাকাকে দেওয়া হয়নি।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে অজিত ডোভালের বৈঠকে বিষয়টি ওঠে। ডোভাল কিন্তু শান্তভাবে জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, তাদের কাগজপত্র পাঠাতে। সেই কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ডোভাল ফিরে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক কিন্তু আশ্চর্যরকম চুপ। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ চাইছে, মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে আড়াল করতে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একাংশ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলার চেষ্টা করছে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। তাদের মনে ভারত বিরোধী ক্ষোভ তৈরি করা। ইতিমধ্যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র সরকারের কাছে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। বলা হচ্ছে, এই রায় পূর্বপরিকল্পিত। গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সেই রায় ঘোষণা করে সরকারের গোপন পরিকল্পনায় সিলমোহর দিল।












Discussion about this post