আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রের তরফ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম প্রবীণ আইনীজীবী জেড আইন পান্না। রবিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ তাঁকে নিয়োগ করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিআইএফ) গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শেখ হাসিনা সহ মোট ১৭ জন আসামী রয়েছেন। এরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তাফা সারওয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসর, প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম। রবিবার তাদের আদালতে আনা হয়। এই মামলার তিন আসামি ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা, তাঁর আমলের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং হাসিনার উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকি সহ সাত আসামী পলাতক।
অন্যদিকে, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেএআই) গুম করে রাখার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অপর একটি মামলায় শেখ হাসিনা সহ ১৩জনকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন হলেন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের প্রাক্তন ডিরেক্টর। এরা হলেন মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব রহমান সিদ্দিকি এবং ব্রিগেডিয়ারল জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকি। রবিবার তাদের ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়।
সকালে ট্রাইব্যুনাল বসলে ট্রাইব্যুনাল- ১ –য়ের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এই নিয়োগ সংক্রান্ত আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সকালে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হলে জেড আই খান পান্না শেখ হাসিনার পক্ষে আইজীবী রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। প্রসিকিউশনের তরফে শুনানি করেন প্রধান কৌশুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। রবিবার সকালে ট্রাইব্যুনালে আসেন আইনজীবী জেডআই খান পান্না। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ এই আইনজীবী আগেও শেখ হাসিনার পক্ষে মামলা লড়ার জন্য আবেদন করেছিলেন।
রবিবার সকাল ১০টায় কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রিজনভ্যানে করে ১৩ সেনাকর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে ছিল সেনা, পুলিশ। মোতায়েন করা হয় বিজিবিকেও। এর আগে গত ২২ অক্টোবর তিন মামলায় গ্রেফতার মোট ১৫ সেনাকর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য আসামীরা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীতে ২৮জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামী।
প্রশ্ন হচ্ছে ঢাকা কী করে হাসিনার দেওয়া রায় কার্যকর করে। কারণ, হাসিনা রয়েছেন দিল্লিতে। তাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে আরও একবার চিঠি দিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। হাসিনার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালকেও ফেরত চেয়েছে ঢাকা। শুক্রবারই দিল্লিকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।












Discussion about this post