পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির শুধুমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বসে কাবাবই খাচ্ছেন না। অথবা পহেলগামের কায়দায় পরবর্তী হামলার জন্য পাকিস্তানের মদতে পুষ্ট সংগঠনগুলির সঙ্গে বসে কৌশল রচনাই করছেন না। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, তিনি বাংলাদেশের প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে সেই অংশকে জোরদার এবং চিহ্নিত করার চেষ্টাও করছেন যারা ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিনা সরকারের পতনে সব থেকে বেশি যদি কেউ খুশি হয়ে থাকে, তিনি হলেন পাকিস্তান সেনা প্রধান আসিম মুনির। তিনি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর বাংলাদেশে যাওয়ার পথ আরও সুগম হল। একটা ছবি তো গোটা দুনিয়া দেখেছে। সেই ছবি হল পাকিস্তান সেনার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির সামসাদ মির্জার হাতে একটি বই উপহার হিসেবে তুলে দিচ্ছেন তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস। বইয়ের শিরোনাম ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ: গ্রাফিতি অব বাংলাদেশ’স নিউ ডন।’ আর বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে বাংলাদেশ তোলপাড় হয়ে ওঠে। ভারতের গণমাধ্যমও এই নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সাউথব্লক থেকে তদারকি সরকারকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে কিছুদিন আগে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের দেওয়া একটি ভাষণের উল্লেখ করতে হয়। বুধবার মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কম্যান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কনভেনশনে বাহিনীকে ঢালাও সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন। বলেছিলেন গত জুলাই অগাস্ট আন্দোলনের সময় ছাত্রদের পাশে সেনা ছিল বলেই হাসিনা সরকারের দ্রুত পতন সম্ভব হয়েছে। বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মামলা করার জন্য ইউনূসের ওপর চাপ তৈরি করেছিলেন পাক সেনাপ্রধানমন্ত্রী মুনির। গত অগাস্ট আন্দোলনের পর মৌলবাদী শক্তির প্ররোচনায় তদারকি সরকার হাসিনা আমলের সাংবাদিক, সমাজকর্মী, আইনজীবী এমনকী বিভিন্ন বণিক মহলে যারা আওয়ামীপন্থী তাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। যাওয়া যাক প্রতিবেদনের মূল বিষয়ে। আসিম মুনিরের উদ্দেশ্য কী? বা তিনি কী করতে চাইছেন? তিনি তাঁর চেষ্টায় সফল হলে সব থেকে বেশি কে লাভবান হবেন?
পাক সেনাকর্তার অভিসন্ধি হল নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের একটা ভারত বিরোধী হাওয়া তৈরি করতে। তার জন্য তাঁর মূলধন বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি। তিনি চাইছেন যত দ্রুত এদের মাঠে নামিয়ে দিতে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ তদারকি সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। পাক সেনাপ্রধান এখন চাইছেন, বাংলাদেশের বহুত্ববাদ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি আঘাত হানতে। জামাত চাইছে বাংলাদেশে ৭১-কে ফিরিয়ে আনতে। চাইছে পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক। আর সেটা বুঝতে পেরেছেন পাক সোনপ্রধান আসিম মুনির। সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে বাংলাদেশে পাকিস্তানের একটি সেনা ছাউনি তৈরি আশু প্রয়োজন। সেটা হলে বাংলাদেশের মাটি থেকে তারা আরও সহজে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ সংঘটিত করতে পারবে। তাদের তালে তাল ঠুকে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তি ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কাজকর্ম প্রায় বিনা বাধায় চালিয়ে যেতে পারবে। যদিও তারা আতঙ্কে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভারতীয় সেনা যে কোনও সময় সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে পারে।












Discussion about this post