একটা লোকের পক্ষে এত চাপ নেওয়া যায়। জামাতের চাপ। মৌলবাদীশক্তির চাপ। আন্তর্জাতিকমহলের চাপ। এবার চাপ এলো ভুটান থেকে। তদারকি সরকার প্রধানের সঙ্গে তাঁর যমুনাভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, ইউনূসের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ৪০ মিনিটের। বৈঠক হয়েছে প্রায় দেড় ঘণ্টার কাছাকাছি। সোমবার তিনি ভুটানের উদ্দেশ্যে ফিরে গিয়েছেন। একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তদারকি সরকার প্রধানকে পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার। সূত্রটি দাবি, শেরিং তোবগে ইউনূসকে বলেছেন, নেপাল বা ভুটান থেকে পণ্য আমদামি করতে হলে ভারত ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হবে। এই অবস্থায় সাউথব্লকের সঙ্গে আঁকচাআঁকচি না করাই বাঞ্ছনীয়। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তারা নিজেদের পায়ে কুড়ুল মেরেছে। সময় থাকতে থাকতে ভারতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলাই বাঞ্ছনীয়।
চারদিনের ঢাকা এসেছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে শেখ হাসিনার বিচারপ্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে হবে। কারণ, যে আদালতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামালকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে, সেই আদালতের কোনও বৈধতা নেই। ওই বিচারপদ্ধতি অবৈধ।
সূত্রের দাবি, কমনওয়েলথ মহাসচিব ইউনূসকে বলেছেন নির্বাচন হতে হবে স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ। সব রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ তিনি ঘুরিয়ে তদারকি সরকার এই বার্তা দিলেন যে আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচনকে তারা মান্যতা দেবে না। অংশগ্রহণ নয়, ভোট হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক।
বার্তা দেওয়া হয়েছে গণমাধ্যম নিয়েও। সূত্রটি জানিয়েছে,কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে ইউনূসকে বলেছেন, সে দেশের একাংশ গণমাধ্যমে ভারত বিরোধী এবং মার্কিন বিরোধী খবর প্রচার করা হচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক খবরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটা ভুল পদক্ষেপ। অবিলম্বে ওই সব গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে সরকার কোনও পদক্ষেপ করা না করলে সরকারকে আগমীদিনে চড়া মূল্য দিতে হবে।
চারদিনের সফরে কমনওয়েল মহাসচিব বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ এবং চোদ্দ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আওয়ামী লীগের তরফে কমনওয়েলথ সচিবের সঙ্গে কথা বলেন হোসেন চৌধুরী। সুতরাং, এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে বাংলাদেশের উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে মত বিনিময় হয়েছে। হোসেন চৌধুরী কমনওয়েলথ মহাসচিবকে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, তার জন্য সরকারিস্তরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর দোষ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশনের ঘাঁড়ে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে কমনওয়েল মহাসচিব রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর উদ্বেগ তদারকি সরকারকেও অবগত করিয়েছেন। সূত্রটি বলছেন, কার্যত ইউনূসকে অধিকাংশ সময়ে মুখ বন্ধ করে থাকতে হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ওঠায়। এছাড়া সম্পাদক পরিষদের তিন জনের সঙ্গে বৈঠক করেন কমনওয়েল মহাসচিব। তাদের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের আসল চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করেন। বৈঠকে তারা শার্লি বচওয়ে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে ইউনূসের এই কাজকর্ম তাদের পছন্দ হচ্ছে না। ফলে, তদারকি সরকার প্রধান বেশ চাপে।












Discussion about this post