সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটেছে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্প। যার জেরে কেঁপে উঠেছিল কলকাতা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা। বাংলাদেশের পলি নরম। বাংলাদেশের ভূমি বছরে ২ ইঞ্চি আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে উত্তর – পূর্ব দিকে। এটি ঠেলে দিচ্ছে মায়ানমারের প্লেটকে। এর ফলে যে কোনও সময় ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পের সম্ভবনা রয়েছে। কলম্বিয়ার গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে গত ৪০০ বছরে অতি তীব্র কোনও ভূমিকম্প হয়নি। ভূমিকম্পের ফলে মাটির নিচে চাপ জমে রয়েছে। এই চাপ মুক্ত হলে কম্পনের মাত্রা ৮.২ থেকে ৯ পর্যন্ত হতে পারে।
ভারতীয় প্লেট, ইউরেনেশিয়ান প্লেট, বার্মা প্লেট এই তিন প্লেট যেখানে মিলিত সেইখানে তীব্র ঘর্ষণ ও চাপ জমে থাকে ১০০০ বছর ধরে। ভূত্বাত্তিক গবেষক মাইকেল স্ট্রেকলার বলেন, ঢাকা শহর একটা জেলির বাতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। মাইকেল স্ট্রেকলারের নেতৃত্বে ২০০৩ সালে নিউ ইয়ার্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানি দল বাংলাদেশের সর্বত্ত বিশেষ জিপিএস স্টেশন স্থাপিত করেন। এটি এমন একটি যন্ত্র যা মাটির অবস্থান মিলিমিটার পরিবর্তন হলেও ধরতে পারে। অবশেষে ২০ বছর ধরে তারা মেপে দেখার পর এক ভয়ঙ্কর তথ্য পান। তারা দেখেন, বাংলাদেশের ভূমি বছরে ২ ইঞ্চি উত্তর – পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে। এটি মায়ানমারের নিচে থাকা ভূমিপাতের অংশের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে। যার জেরেই প্রায় ভূমিকম্প দেখা দিচ্ছে। পাত সরে যাওয়া ও ধাক্কা খাওয়ার ফলে মাটির নিচে গভীর চাপ উৎপন্ন হচ্ছে। যা অত্যন্তই উদ্বেগজনক। ৪০০ বছর ধরে জমা হওয়া চাপ একসাথে ফেটে গেলে সেটির ফলে বাংলাদেশ বড়সড়ো ভূমিকম্পের মুখে পড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হতে পারে ঢাকা সহ একাধিক বড় শহরগুলি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশ অঞ্চলে বড় ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত প্রায় ১৫০ বছরের ব্যবধানে ফিরে আসে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৭৬২ সালে প্রায় ৮.৫ মাত্রার গ্রেট আরাকান আর্থকোয়েক এবং ১৮৯৭ সালে আসামে আঘাত হেনেছিল ৮.৭ মাত্রার গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক, যার অভিঘাতে তৎকালীন বাংলা অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এরপর ১৯৩০ সালের ধুবড়ি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.১। অধ্যাপক আখতারের মতে, ১৯৩০ সালের পর থেকে অপেক্ষাকৃত বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
অধ্যাপক আনসারী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা যদি ৬ এর কাছাকাছি পৌঁছায় তাহলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ভবন ছয়তলার বেশি। বড় ধরনের কম্পন হলে এই উচ্চ ভবনগুলোর ওপরই সর্বাধিক ঝুঁকি তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সরকার ও জনগণ উভয়কেই দ্রুত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে ভূমিকম্পের মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করাই এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় উত্তম পন্থা।












Discussion about this post