গত বছর ৫ ই অগাস্ট ছাত্র অভ্যূথান ও গণ আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী পদ খুঁইয়ে দেশ ছাড়া হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা। ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। ভেঙে ফেলা হয় বঙ্গবন্ধুর মূর্তি সহ হাসিনার বাসভবন। ১৫ বছর শেখ হাসিনার দখলে থাকা বাংলাদেশ ছেড়ে শেখ হাসিনাকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। দেশ ছাড়ার পর তিনি আশ্রয় নেন ভারতে। যদিও এইটাই প্রথম নয় এর আগেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের হত্যার ঘটনা ঘটার পর দীর্ঘ ৬ বছর ভারতের আশ্রয়ে ছিলেন আওয়ামীলীগের নেত্রী শেখ হাসিনা। তখন থেকেই দিল্লির প্রতি এক গভীর আস্থা ও সম্মান জাগে হাসিনার অন্দরে। তারপর তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হওয়ার পরেই ভারতের সাথে সু – সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন। যদিও সেসব এখন অতীত। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ শাসন করছেন একজন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যিনি বরাবরই ভারত বিরোধী। ভারতের বিরোধিতা করাই যার মূল কাজ। হাসিনার পতনের পর এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মুক্তিযুদ্ধের সকল কথা ভুলে গিয়ে হাত মিলিয়েছেন শত্রু রাষ্ট্র পাকিস্তান ও চীনের সাথে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনুস বহু পরিমানে দহরম মহরম বাড়িয়েছেন এই দুই দেশের সাথে। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের তরফে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু বারবার সেই অনুরোধ অনুরোধই থেকে গিয়েছে। ভারত তার বন্ধু হাসিনাকে ফেরত পাঠায়নি।
অন্যদিকে হাসিনা ভারত থাকলেও তার বিরুদ্ধে থাকা মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ ও একাধিক মামলা চলছিল বাংলাদেশে। তার আমলে তার হাতে গড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গত ১৭ ই নভেম্বর হাসিনাকেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে। এই রায় ঘোষণা হওয়ার পরেই এই রায়ের বিরুদ্ধে জাতি সংঘ সহ বিশ্বের বাকি দেশ গুলিও। এই রায় ঘোষণার পরেই শক্তিশালী দেশ ভারত এক গঠনমূলক বার্তা দেয় বাংলাদেশকে। পাশাপাশি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতের প্রশংসা করতে থাকে। তিনি জানান, ভারত তার মায়ের জীবন রক্ষা করেছে। তার মা কে ভারত পূর্ণ দেশ প্রধানের মর্যাদা দিয়ে রেখেছে।
ভারত – বাংলাদেশের প্রত্যপর্ণ চুক্তি দেখিয়ে বাংলাদেশ হাসিনাকে ফেরত চাইলেও ছুটিতে উল্লেখ করা কথা অনুযায়ী হাসিনাকে ফেরাতে বাধ্য নয় ভারত। মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নেওয়া তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা চাইলে, সুপ্রিম কোর্টের পাশাপাশি হেগের আন্তর্জাতিক কোর্টেও আপিল করতে পারবেন। তাই বাংলাদেশ যতই বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনাকে ফেরতের দাবি জানাক না কেন, ভারত তার বন্ধু হাসিনাকে কখনই বাংলাদেশী ওত পেতে থাকা হায়নাদের হাতে তুলে দেবে না। সাথে এ বিষয়ে ভারত বাংলাদেশের সাথে একটি বাক্যও ব্যায় করতে রাজি নয়।












Discussion about this post