বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনুস বাংলাদেশের টার্মিনাল গুলোকে নিজের মনে করে ইচ্ছা মতো বিক্রি করেছেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে, গত ১৭ ই নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার দিন যখন বাংলাদেশের জনগণ রায়ের ঘোষণা শোনার জন্য তাকিয়ে ছিল, ঠিক তখনি ইউনুস বাংলাদেশের দুটো টার্মিনাল লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দর অস্বাভাবিক দ্রুততায় কয়েক দশকের জন্য বিদেশী কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার চুক্তি সম্পন্ন করেন। এই দুই টার্মিনাল পরীক্ষা – নিরীক্ষা করার জন্য সরকার দুই দিন সময় ব্যায় করে। চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালটি ৩০ বছরের জন্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডেনমার্ক ভিত্তিক শিপিং ও লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস কে। ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীন কনটেইনার টার্মিনালটি ২২ বছরের জন্য দিয়ে দেওয়া হচ্ছে সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেডলগ কে। ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ড এই দুটোই মার্কিন যুক্তরাষ্টের ঘনিষ্ট দেশ। সাথে মার্কিন প্রভাব বিস্তারে সারা দেশে কাজ করা নেটোর ঘনিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বন্দরের এত টার্মিনাল যে গুলো বাংলাদেশের সম্পদ সেগুলো নামেই কয়েক দশকের জন্য নগদ অর্থে বেঁচে দিচ্ছেন ইউনুস সরকার। যা থেকে স্পষ্টই সরকারের স্বার্থের প্রমান মিলছে। উল্টে সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বন্দরগুলিতে লুট, চাঁদাবাজি ও অদক্ষতার অবসান ঘটাতে বন্দরগুলি বিদেশী কর্তৃপক্ষদের হাতে দেওয়া হচ্ছে। এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, খুঁজে খুঁজে অতি দ্রুততার সাথে বন্দর তুলে দেওয়া এটা ইউনূসের দীর্ঘ পরিকল্পনা। তাকে যাতে বাংলাদেশের প্রশাসন, জন প্রশাসন, সরকারি কর্মকর্তাদের সরকারি ব্যাবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে না হয় সে কারণেই তার কোটা ভুক্ত বিভিন্ন ব্যাক্তিদের মন্ত্রী সহ বিশেষ সহকারী পদ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করেছেন।
অন্যদিকে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন কে বহুজাতিক একটি ব্যাঙ্কের মধ্যপদস্থ পদ থেকে তুলে এনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করেছেন ইউনুস সরকার। এই আশিক চৌধুরী বিনিয়োগের উদাহরণ হিসেবে বন্দরকেই দেখাচ্ছেন। তিনি বলছেন, সীমিত বন্দর সক্ষমতার সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার ও দক্ষতা বাড়াতে বিশ্বমানের অপরেটর আনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অদক্ষতা ও দুর্নীতিকে। চট্টগ্রাম বন্দরে একটা জাহাজ বার্থিংয়ের জন্য ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। কন্টেইনার খালি করতেও সময় লাগে ৭ থেকে ১০ দিন। সেখানে সিঙ্গাপুরে সময় লাগে মাত্র ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা।
বাংলাদেশে যারা এই টার্মিনাল গুলি পরিচালনা করেন তারা বলেছেন, কাস্টমসের দীর্ঘ সময় লাগার কারণে এবং কাস্টমসের নিয়মের নানান জোট থাকার কারণে ২ থেকে ৩ দিন দেরি হচ্ছে। সেই জোট না খুলে শুধুমাত্র বিদেশী অপরেটারদের টার্মিনাল দিয়ে দিলে কি করে এই দীর্ঘ সময় ব্যায় কমবে যার উত্তর সরকার ও আশিক চৌধুরী দিতে পারেননি।












Discussion about this post