বড় ধরনের সংকট এর মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। পুলিশের প্রধান আইজিপিকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে নাম উঠে এসেছে পুলিশের প্রধান আইজিপি মোঃ বাহারুল আলমের। এমনকি বাহারুল আলমের বরখাস্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ প্রধানকে সরাতে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর কি সিদ্ধান্ত নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার? তাকে কি তার পদ থেকে সরিয়ে দেবে? সরিয়ে না দিলেও বিতর্কের জন্ম দেবে।
জানা যাচ্ছে, শনিবার ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনসেবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়েছেন। আবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ড যেখানে দেশের ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা সহ অসংখ্য সদস্য নির্মমভাবে শহীদ হন। ওই ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে করুন একটি ঘটনা। ওই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, আইজিপি বাহারুল আলমকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা হোক। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার ভূমিকা ও দায় নির্ণয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করার জন্য সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। সম্প্রতি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাখিলকৃত রিপোর্টে বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলমের নাম উত্থাপিত হওয়ায় দেশের ন্যায় বিচার জন্ম আস্থা এবং বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আলোচনায় উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, গত বছর ৫ ই আগস্টের পর অন্তবর্তিকালীন সরকার গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারই একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। এখন তারা যেমন শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। একইভাবে ভারতকে তারা জড়িয়েছে। এখন পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শকের নাম। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তার নাম এমন একটি রাষ্ট্রদ্রোহী ও ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উল্লেখ হওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আবেদন করা হয়েছে সরকারের কাছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলেন, তদন্ত রিপোর্টের নাম আসাই আইজিপিকে অবিলম্বে পদ থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার ভূমিকা ও দায়ী নির্ণয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের দাবি করেন তিনি। এখন প্রশ্ন, কি করবে সরকার? এমনকি এই প্রশ্নও উঠছে, যে এমন একটি হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে দাবি করা পদাধিকারীকে কেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার পদে আসীন রেখেছে? অনেকে বলছেন, অন্তবর্তীকালীন সরকার নিজের পছন্দের মতো পদাধিকারীকে পদে আসীন রেখেছে। তাকে কি আদেও সরাবে সরকার? যদি না সরিয়ে থাকে তবে বিতর্কের জন্ম দেবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বাংলাদেশে সম্প্রতি যা যা তদন্ত হয়েছে, বিচার হয়েছে, তা নিয়ে একতরফার কথা বলা হচ্ছে। একপেশে বিচার কার্য হচ্ছে অন্তবর্তাকীলন সরকারের আমলে। দাবি সেদেশেরই বহু মানুষের। এই পরিস্থিতিতে এখন মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার কি সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।












Discussion about this post