বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন সম্পর্কের কথা কারও অজানা নয়। সেটা নিয়ে বাংলাদেশের অন্দরে নানা আলোচনা চলছে। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এই সম্পর্ক খারাপ করে রাখা হয়েছিল। এরমধ্যে পাকিস্তানের মন্ত্রী পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং চীনকে কেন্দ্র করে এই উপমহাদেশে একটি নতুন জোট করার তারা চিন্তা করছে। এবং সেখানে ভারতকে বাদ দিয়ে জোট করার চেষ্টা যেটা সার্কের বিকল্প। পাকিস্তানের শিক্ষা, সংস্কৃতি থেকে অনেক কিছুই নেওয়ার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এই কর্ম কাণ্ডের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থা, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা…এই বিনিময়গুলো যখন হচ্ছে, তখন পাকিস্তানীকরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তখন যুক্তরাজ্য থেকে একটি খবর এসেছে। যেখানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে টার্গেট করা হয়েছে। যেটা মূলত বাংলাদেশ ছাত্রছাত্রীদের জন্য খারাপ খবর। এমনকি পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই বিষয় করা হয়েছে। পাকিস্তানকে কেন জরালো যুক্তরাজ্য? কেন তাদের বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অকার্যকর করা হল? অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এটা কি টিউলিপ কাণ্ডের ফল? কারণ টিউলিপকে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন। অনেকে বলছেন, এর জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ নেমে এল ইউনূস প্রশাসনের উপর।
জানা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রভাবে দেশটির বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। ভিসা অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় ব্রিটিশ ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। যুক্তরাজ্যের কমপক্ষে ৯টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। জানা গিয়েছে, প্রকৃত শিক্ষার্থী শনাক্ত এবং ভিসা নীতিমালা কঠোরভাবে মানার চাপ থেকেই এসব বিশ্ববিদ্যালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি তালিকাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির। সেই তালিকায় রয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, কভেন্ট্রি ইুনূভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, বিপিপি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার। উল্লেখ্যভাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আশ্রয় প্রার্থনার প্রবণতা বেড়েছে। এমনকি নতুন ভিসা কমপ্লায়েন্স নীতি অনুযায়ী কোন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ভিসার ৫ শতাংশের বেশি আবেদন বাতিল হলে প্রতিষ্ঠানটির স্পন্সর লাইসেন্স স্থগিত করার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে উচ্চ ঝুঁকি সম্পন্ন দেশগুলির আবেদন সীমিত করছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে যে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর ২২ শতাংশ এবং পাকিস্তান শিক্ষার্থী ১৮ শতাংশ ভিসা আবেদন বাতিল করেছে। এমনকি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোট ২৩,০৩৬ টি ভিসা আবেদন বাতিল করে দিয়েছে। যাদের প্রায় অর্ধেকটাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাজ্য সফরে গেলেন, তখন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাক্ষাত করেননি ইউনুসের সঙ্গে। এরপর দেখা গেল, শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকীকে দু বছরের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্লট দুর্নীতি। তবে তিনি প্লট নেননি। প্লট পাওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। এর জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ফোন করেছেন। এবং অনুরোধ করেছেন প্লট দেওয়ার জন্য। এখন প্রশ্ন, শেখ হাসিনা একজন দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে টিউলিপ সিদ্দিকীর কি প্রয়োজন আছে প্লট দেওয়ার জন্য সুপারিশের? এই অবিশ্বাসযোগ্য বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে যুক্তরাজ্য থেকে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি কি টিউলিপ সিদ্দিকীর সঙ্গে করা এই ঘটনাটির ফল? অনেকে বলছেন মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার এসে সমস্ত দেশের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। যার জন্য ভুগতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।












Discussion about this post