ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে ২৩ তম ভারত ও রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের ভারত সফরে দিল্লি এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রথা ভেঙে দিল্লির বিমানবন্দরে বন্ধু পুতিনকে স্বাগত জানাতে পৌঁছান মোদী। এরপর তিনি নিজের গাড়িতে বন্ধু পুতিনকে বসিয়ে নিজের বাসভবনে নিয়ে যান বিশেষ নৈশভোজের জন্য। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে দেওয়া হয় গার্ড অফ অনার।
পুতিনের এই ভারত সফরে বিশেষ নজর রয়েছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পুতিনের ভারত সফরে মোটেই খুশি নন ট্রাম্প। পুতিনের এই সফরে ব্যবসা – বাণিজ্য ও সামরিক সহ নানান বিষয়ে ভারত ও রাশিয়া অগ্রগতির আরও একধাপ এগিয়ে গেল। আমেরিকা ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়াকে একঘরে করতে চেয়েছিল। চাপানো হয়েছিল সুইফট নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই নিষেধাজ্ঞাকে ব্যর্থ করতে ভারতের সাথে জোট বাঁধছে রাশিয়া। ডলার নির্ভর অথনীতিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত ও রাশিয়া।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, আমি ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপ্রদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ সকল ভারতীয়দের ধন্যবাদ জানাই আমাকে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। ভারতকে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ করতে প্রস্তুত রাশিয়া। জ্বালানি ক্ষেত্রে উভয় দেশই সন্তুষ্ট। রুশ ও ভারত বাণিজ্যের ৯৬ % আর্থিক লেনদেন নিজেদের অর্থের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সামরিক চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও রাশিয়া একে অপরের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ব্যবহার করতে পারবে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা হবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারত ও রাশিয়া লেনদেন পৌঁছেছে ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এটি ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া হবে।
ভারতের মিত্র দেশ রাশিয়া। ভারতের কাছে আমদানি দেশ রাশিয়া। ভারত ও রাশিয়া ডলারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ডলারকে রূপান্তরিত করছে মুদ্রায়। ভারত রাশিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে। আমদানি করে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার। এর প্রধান কারণ জ্বালানি আমদানি। এছাড়াও সামরিক ও পারমাণবিক দিক থেকে দু দেশের নির্ভরতা বাড়ছে। আমদানি – রপ্তানি মিলিয়ে ৬৮ বিলিয়ন ডলার ভারত ও রাশিয়ার বাণিজ্য। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। ভারত বছরে প্রায় ৮০ – ৮৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং আমদানি করে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর সাথে ভারতের বাণিজ্য প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার। পুতিনের বলা ১০০ বিলিয়ন ডলারের কথা শুনে ঘুম উড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্টের। ঠিক এই কারণেই পুতিনের ভারত সফরের আগেই ভারতের সাথে বাণিজ্যের সম্পর্ক জিইয়ে রাখতে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা ঘোষণা করে আমেরিকা।
পুতিনের এই সফরের মাঝেই ভারতের সাথে নিজেদের বন্ধুত্ব জানান দিচ্ছে আমেরিকা। জানা যাচ্ছে, মার্কিন ডেপুটি বাণিজ্য প্রতিনিধির নেতৃত্বে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি দল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ভারতের আসার পরিকল্পনা করছে। যদিও ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ % কর কমানোর জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন আমেরিকার সাথে। ভারত – রাশিয়ার এই বন্ধুত্ব দেখে আমেরিকাও ভারতের সাথে বন্ধুত্ব হারাতে নারাজ। অন্যদিকে, পুতিনের এই ভারত সফর নিঃসন্দেহে বিশ্ব ব্যাপী গুরুত্ব বহন করছে।












Discussion about this post