হ-য-ব-র-ল—য়ের সেই ফিচকে বিড়ালটার কথা মনে আছে? সেই বিড়ালটা বলে ছিল গরম লাগলে তিব্বত যেতে হবে। কীভাবে যেতে হবে, সেই রাস্তাও সে বাতলে দিয়েছিল। বলেছিল, ‘কলকেতা, ডায়মন্ডহারবার, রানাঘাট, তিব্বত, ব্যস…. সিধে রাস্তা, সওয়া ঘণ্টার পথ, গেলেই হল। ’ সে এটাও বলেছিল, গরমের জ্বালাযন্ত্রণা থেকে রেহাই না পাওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকতে হবে। ’
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ভারতে আসা এবং সেখানে থেকে যাওয়া প্রসঙ্গে হ-য-ব-র-ল-য়ের ফিচকে বিড়ালটার কথা উল্লেখ করতে হল। হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকা দু’বার দিল্লিকে নোট ভার্বাল পাঠিয়েছে। কিন্তু দিল্লি কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত শেখ হাসিনা এবং তাঁর আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। সেই দণ্ডাদেশ কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর তদারকি সরকার প্রধান। সে কারণে হাসিনা এবং তাদের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দিল্লিকে লাগাতার চাপ দিচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখানে একটা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (জুলাই আন্দোলন) এসেছিলেন। আমার মনে হয়, তাঁর সাথে যা ঘটেছে তার পেছনেও সেই পরিস্থিতিই রয়েছে। কিন্তু আবারও বলছি, এটা এমন একটা বিষয় যেখানে তাঁকে মনস্থির করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ (সি হ্যাজ টু মেক আপ হার মাইন্ড)’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের মঙ্গল কানা করে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা মনে করি, অন্যান্য গণতন্ত্রে মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজেদের ইচ্ছে প্রকাশ করতে পারে। এবং আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যে ফলাফল সামনে আসবে, তার পরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতি ভারসাম্যের দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে বাংলাদেশের এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
কথা বলেছেন বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়েও। জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদের থেকে আমরা শুনেছি যে আগে যেমন ভাবে নির্বাচন হত, তা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। তাহলে সেটাই যদি হয়, তাহলে সর্বপ্রথম তাঁদের স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে।’ উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে আওয়ামি লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইউনুস সরকার। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে ভারতের থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’ এ ঘটনায় একদিনে বা সাতদিনে কোনও অগ্রগতি ঘটে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা অপেক্ষা করব। দেখতে চাই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কী রিঅ্যাকশন পাওয়া যায়। তবে একটা রিঅ্যাকশন দেখেছি যে তারা বিষয়টা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুক।তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং জিয়ার লন্ডন যাওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তারেকে দেশে ফেরার বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। এয়ারক্র্যাফটে টেকনিক্যাল কারণে জিয়ার বিদেশ যাত্রায় একদিন দেরি হতে পারে। ’
আরাকান আর্মি বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আরাকান আর্মির সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়। কারণ তারা কোনো স্টেট নয়। যেমন আমরা মিয়ানমার, থাইল্যান্ড বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে করতে পারি স্টেট হিসেবে। তবে অনেক কিছুই স্পষ্ট করা যায় না। এ ধরনের ঘটনা যাতে কমে বা আদৌ না ঘটে সেজন্য বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।












Discussion about this post