বোকা বন্ধুর থেকে বুদ্ধিমান শত্রু অনেক ভালো, এই প্রবাদটি হাড়ে হাড়ে বুঝেছে আমেরিকা। তাই এশিয়াতে পাকিস্তান বাংলাদেশের মত ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকা স্বতেও, ভারতকেই বেছে নিল আমেরিকা। কেউ কেউ বলতে পারে ভারতের চালে মাত হয়ে, ভারতকেই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকা। বর্তমানে বাংলাদেশ পাকিস্তান শুধু বোকা বন্ধুই নয়, আমেরিকার চোখে বিশ্বস ঘাতকও। বাংলাদেশকে কি কড়া বার্তি দিল আমেরিকা, তা জানার আগে জেনে নিই, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান আমেরিকার চোখে বোকা এবং বিশ্বাস ঘাতক কেন? প্রথমে আসি পাকিস্তানের কথায়। প্যাহেল গাঁ হামলার পর ভারত যখন পাকিস্তানের জঙ্গীঘাঁটি গুলি ধ্বংস করছিল, এবং দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, তখন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ কি বলেছিলেনমনে আছে আপনাদের। পহেলগামের জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট। খাওয়াজা বলেছিলেন, লস্কর-ই-তইবাকে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের আর অস্তিত্ব নেই।খাজা আসিফ আরও বলেন, ‘আমরা তিন দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমাদের জন্য, এই নোংরা কাজটি করে আসছি।’ তবে, তিনি দ্রুত উল্লেখ করেছিলেন যে এটি একটি ভুল ছিল এবং পাকিস্তানকে এর জন্য ফল ভোগ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে, ও পরবর্তীতে ৯/১১ হামলার পরে যুদ্ধে যোগ না দিতাম, তাহলে পাকিস্তানের একটি ভাল ট্র্যাক রেকর্ড থাকত।’অর্থাৎ পাকিস্তান জঙ্গী লালন পালন করে আমেরিকার ইশারায়। ফলে তাদের দেশের জঙ্গীবাদী কার্যকলাপে আমেরিকার হত আছে, তাই তাদের ট্র্যাক রেকর্ড খারাপ, সেটি কে বলছে? সেটি বলছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।গোটা বিশ্ব জানে পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের আতুর ঘর। তাই পাকিস্তানের মত একটি দেশকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে, আবার কখনও কখনও ভারতকে চাপে রাখার কৌশল হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু আমেরিকা তাকে কখনই বন্ধু বলে মনে করবে না। আর বাংলাদেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছে তাদের, ভূ-রাজনীতির জ্ঞান তো দুরের কথা। রাজনৈতিক জ্ঞানই নেই।তাই তো মহম্মদ ইউনূস ক্নিন্টন ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে গিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড হিসাবে মহফুজ আলমকে তুলে ধরেন। আর গোটা বিশ্ব জেনে যাই জুলাই আন্দোলোন আমেরিকার টাকায় পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যা হাসিনাকে উচ্ছেদ করার জন্য ডিপস্ট্রেটের গোপন পরিকল্পনা। এছাড়া বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান আমেরিকার প্রধান শত্রু চিনের সঙ্গে মাখো মাখো সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। অর্থাৎ এই দুই দেশে আমেরিকার বদনাম ছাড়া আর কিছুই জুটে নি, সঙ্গে আমেরিকার শত্রু চীনের সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক দিন দিন উন্নত হচ্ছে। অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে আমেরিকা অনেক ষড়যন্ত্র করলেও ভারত সরকারী ভাবে কোন কিছুই বলেনি কোনদিন। সে ভারতের সরকার ফেলে দেওয়ার খেলা হোক, বা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশের মাটিতে ষড়যন্ত্র করে হত্যার পরিকল্পনা, কোন ক্ষেত্রেই আমেরিকার নাম নেয়নি ভারত।ফলে আমেরিকার কাছে ভারত এমন একটি রাজনৈতিক ম্যাচিওর গনতান্ত্রিক দেশ। যার সঙ্গে শত্রুতা করলেও বন্ধুত্ব্যই মেলে। ফলে আমেরিকা বুঝতে পারছে এশিয়াতে তারা সরাসরি দাদাগিরি করতে এলে, কিছুই করতে পারবে না, সঙ্গে ভারতের বাজার হারাবে, এবং চীন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতও তাদের শত্রু হয়ে উঠবে। সব দিক বিচার করে আমেরিকা এখন বাংলাদেশ কে চাপ দিচ্ছে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক ভালো এবং খারাপ হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও এখানে অনেকখানি। আমেরিকা জানিয়ে দিলো, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েন কাম্য নয়। ভূ-রাজনৈতিক কারণে দু’দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিকল্প নেই। নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এমন বার্তা নিয়ে খুব শিগগিরই ঢাকায় আসছেন। এই পটভূমিতেই ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। প্রাথমিক আলোচনার পর দিল্লিতে ড. খলিলকে আমন্ত্রণ জানান অজিত দোভাল। বৈঠকটি হয় অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে। দু’পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমানোর তাগিদ আসে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে মনোযোগ দেন তারা। এর আগের খবর- ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অনেকটা নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার নীতি পরিবর্তনের পক্ষে মত দেন। জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় নরেন্দ মোদির টুইট এরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এজেন্সিনির্ভর কৌশল বাদ দিয়ে মোদি রাজনৈতিকভাবে সম্পর্ক উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেন নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে। যদিও হাসিনা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান পরিবর্তনের কোন সম্ভবনাই নেই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post