গুরুতর বললেও কম বলা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি একেবারেই সংকটজনক বলা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া, যিনি বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী তথা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন। জানা যায়, খালেদা জিয়ার গুরুতর শারীরিক সমস্যা রয়েছে। তাঁর কিডনি কাজ করছে না, দীর্ঘদিন ধরেই লিভারের সমস্যা রয়েছে। আরও কয়েকটি অঙ্গ কাজ করা কার্যত বন্ধ করেছে। এহেন এক রোগীনীকে ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার দুরে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোর চলছে। সময় লাগে প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা। ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রায় লাইফ সাপোর্টে থাকা কার্যত মৃত্যুমুখে থাকা এক রোগীকে কিভাবে এত দুরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব? আপাতত বিএনপি নেত্রীর লন্ডন যাত্রা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। জানা যাচ্ছে, সব তোড়জোর শুরু হয়ে গেলেও কোনও এক অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছে। আবার আদৌ তাঁকে নিয়ে যাওয়া যায় কিনা সেটাই অনিশ্চিত। পরিস্থিতির কেন এই পরিবর্তন?
বিভিন্ন মহলের সূত্রে জানা যাচ্ছে মূলত বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং খালেদার পরিবারের সদস্যদের টানাপোড়েনে তাঁর লন্ডন যাত্রা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকেই বাংলাদেশের শীর্ষ বিএনপি নেতারা বারবার বলে আসছিলেন তারেক রহমান শীঘ্রই ঢাকার ফ্লাইট ধরবেন। কিন্তু অন্যদিকে জানা যাচ্ছিল, লন্ডনে বসেই তারেক ও তাঁরা স্ত্রী ডঃ জুবেইদা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং চিনের চিকিৎসকদের সাথে ভার্চুয়ালি যোগাযোগ রেখে মায়ের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছিলেন। তারেকের দেশে ফেরার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। অথচ, প্রথম থেকেই খালেদার আরেক পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান সিঁখি শাশুড়ির পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। খালেদা জিয়া জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই যিনি শাশুড়ির পরিচর্জা এবং যাবতীয় তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু যখন খালেদাকে লন্ডন নিয়ে যাওয়ার তোড়জোর শুরু হল তখন পুত্রবধূ শর্মিলা রহমান সিঁখির সাথে কেউ যোগাযোগ করলেন না। অথচ তারেক লন্ডন থেকে পাঠিয়ে দিলেন তাঁর চিকিৎসক স্ত্রী জুবেইদাকে। আরেকটি মজার তথ্য হল, জুবেইদা যখন লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে, তখনও জানতেন না বিএনপির শীর্ষ নেতারা। মির্জা ফকরুল ইসলাম তো প্রকাশ্যেই সাংবাদিকদের ধমক দিয়ে বলেছিলেন, আপনারা এসব আজগুবি কথা কোথা থেকে শোনেন। কিন্তু জুবেইদা ঢাকায় অবতরণ করে সোজা হাসপাতালে গেলেন। অন্যদিকে দেখা গেল, খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছিলেন মির্জা ফকরুল ইসলাম। চিকিৎসকরা বললেই তাকে লন্ডন নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি বলেছিলেন, ম্যাডাম বিমানে ওঠার উপযুক্ত হলেই তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হবে। তবে তাঁর জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা কে করলো, সেটা নিয়েও রহস্য রয়েছে। প্রথমে জানা গিয়েছিল, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফকরুলের চিঠিতে সাড়া দিয়েছে কাতার। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্র্ণালয় দাবি করে তাঁরাই কাতারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল। সেই মতো কাতারের আমীর সব ব্যবস্থা করে দেন।
কিন্তু সেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেই আবার যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিল। বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলে কাতার নিশ্চিত হতে চাইছে, খালেদা জিয়া আদৌ বেঁচে আছেন, নাকি মারা গিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু ওই বিশেষ বিমানের সঙ্গে চিকিৎসক, সেবিকা এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও পাঠাতে হবে। আর বিমানটি দোহা হয়ে যাবে। তাই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির সবদিক খতিয়ে দেখে চুরান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে কাতার। কারণ, মাঝ আকাশে কিছু ঘটে গেলে দায় কার হবে সেটাও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। আর এখানেই রয়েছে গোলযোগ। জানা যাচ্ছে, খালেদার পরিবার ও দলের মধ্যেই দড়ি টানাটানি চলছে। স্থানীয় নেতৃত্ব কোনও ভাবেই খালেদা জিয়াকে ছাড়তে নারাজ। কিন্তু তারেক চাইছেন মাকে যে কোনও পরিস্থিতিতে লন্ডনে নিয়ে যেতে। শেষ পর্যন্ত জানা গিয়েছে, কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স শনিবার রাতেই ঢাকায় এসে পৌঁছবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post