১ ডিসেম্বর দুদিনের জন্য ভারত সফরে এসেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অনেকটা প্রথা ভেঙেই তিনি দিল্লির বিমানবন্দরে পৌঁছে যান “বন্ধু” পুতিনকে স্বাগত জানাতে। এরপর নিজের গাড়িতে বসিয়ে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টকে নিজের বাসভবনে নিয়ে যান বিশেষ নৈশভোজের জন্য। সাধারণত কূটনৈতিক শিষ্টাচারে এই ধরণের বিষয়টি দেখা যায় না। তবে এবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি যেন কিছুটা বাড়তি উৎসাহ দেখাচ্ছেন। এটাও কিন্তু কূটনীতির একটা অঙ্গ। যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করছে। ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কত দৃঢ় সেটা বোঝাতেই নরেন্দ্র মোদির এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সময় আরও একটি ভিডিও নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভিডিওটি সাম্প্রতিক বলে দাবি করছেন সমাজমাধ্যমে। ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্যাপশনে লেখেন, “দিল্লিতে শেখ হাসিনা ও পুতিন বৈঠক মিশন কমপ্লিট আলহামদুলিল্লাহ”। এই ভিডিও-র সত্যতা অবশ্য যাচাই করেনি নিউজ বর্তমান, তবে এই ধরণের কোনও বৈঠক হয়েছে কিনা সেটা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, এটা পুরোনো ভিডিও হতে পারে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে স্বাগত জানালেন। তারপর দুজন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ঢংয়ে কথাবার্তা বলছেন, দুজনের মুখেই হাসি। উল্লেখযোগ্য দিক হল, ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দুজনের পিছনে কোনও দেশেরই জাতীয় পতাকা নেই। ফলে বৈঠকটি যে সরকারি নয় সেটা বোঝা যাচ্ছে। ভিডিও-র কোয়ালিটি অনুযায়ী ধারণা করা যায় এটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়নি, তবে পুরোনো কোনও ভিডিও হতে পারে।
এখন দেখা যাক দিল্লিতে আদৌ রুশ প্রেসিডেন্ট আর বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে কোনও বৈঠক হয়েছে কিনা। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এ ধরণের সৌজন্য সাক্ষাৎ বা বৈঠক হলেও হতেও পারে। বিতর্ক এড়াতে সেখানে কোনও জাতীয় পতাকা রাখা হয়নি। ১৯৭১ সালে যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, তখন মার্কিন নৌবহর পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য ভারত মহাসাগরের দিকে অগ্রসর হয়। এটা জানতে পেরে ভারত যোগাযোগ করে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে। প্রকৃত বন্ধুর মতো তাঁরা রুশ নৌবহর পাঠিয়ে দেয় মার্কিন নৌবহরকে আটকে দিতে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌসেনা পিছু হঠতে বাধ্য হয়। এই সুযোগে ভারতের নৌসেনা চট্টগ্রাম বন্দর ও তার আশেপাশের সামুদ্রিক অঞ্চলে মাইন বিছিয়ে দেয়। ফলে ওই যুদ্ধে পাকিস্তান নেভির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এই দিক থেকে দেখতে গেলে ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে ভারত যেমন প্রত্যক্ষ সাহায্য করেছিল, তেমনই রাশিয়া পরোক্ষ সাহায্য করেছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সেনাপতি ছিলেন শেখ হাসিনার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। পরবর্তী সময় রাশিয়া বাংলাদেশকে অনেক সাহায্য করেছিল। এবার মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে কার্যত নির্বাসনে শেখ হাসিনা। ভারত তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছে। হাসিনার সাথেও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সম্পর্ক খুব ভালো। দুজনেই দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ফলে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে একটা সাক্ষাৎ হওয়াটা খুব একটা আশ্চর্যের নয়। হাসিনাকে পূর্ণ ক্ষমতায় বাংলাদেশে ফেরানোর একটা পরিকল্পনা যে ভারতের রয়েছে, সেটাও বুঝতে সমস্যা নেই। তাছাড়া পুতিন ভারতে এসে শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে পারেন বলে একটা খবর বহু আগে থেকেই রটছিল। সবমিলিয়ে এই ভিডিও সত্য হোক আর না হোক। হাসিনা-পুতিন টেলিফোনে কথা হলেও তা হবে মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য চরম এক বার্তা।












Discussion about this post