ভারত-রাশিয় বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে দু’দিনের দিল্লি সফরে এসেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। যাবতীয় প্রোটোকল ভেঙে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখা গেল তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করতে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিল যেমন ভারত, সাক্ষী ছিল গোটা দুনিয়া। আর সেই দৃশ্য দেখে তারা তাজ্জব। আমেরিকার লালচোখকে যে ভারত তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারে, সেটা ওই আলিঙ্গন থেকে স্পষ্ট। চড়া হারে মার্কিন শুল্কের চাপকে খুব শান্তভাবে মোকাবিলা করেছে সাউথব্লক। রাশিয়া থেকে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি। আর এই সিদ্ধান্তে মি. ডন রীতিমতো ক্ষেপে আগুন।
পুতিনের এই সফরকে কেন্দ্র করে যে প্রশ্নটা এখনও সাউথব্লকে ঘোরাঘুরি করছে, সেটা লাখ টাকার প্রশ্ন বললে কম বলা হবে। প্রশ্নটা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের। আর প্রশ্নটি হল দিল্লি থাকাকালীন পুতিন কি হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন? প্রথমত, পুতিন যদি হাসিনার সঙ্গে দেখা করেও থাকেন, তাহলে দিল্লির তরফ থেকে সেটা জানাতে কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করা হবে না। কারণ, বৈঠক আনঅফিসিয়াল। রুশ প্রেসিডেন্ট ভারতে এসেছিলেন সরকারি সফরে। কিন্তু ভারতের একটি গণমাধ্যমের তরফে দাবি করা হচ্ছে, হাসিনার সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। দিল্লি এলে তিনি যাতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, তার জন্য একটা জমি আগে থেকে তৈরি করা হয়েছিল। সেই জমি তৈরি করেছিলেন ছয়জন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জোরের সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, ৩ থেকে ৭ নভেম্বর – মস্কো গিয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদর পুতুল, মহম্মদ আরাফত, ভারতের তিন আমলা এবং একজন সাংবাদিক। তারা রুশ বিদেশসচিব সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে থেকে ফেরার পর পুতুলকে নিয়ে দিল্লিতে হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন রাজনাথ সিংয়ের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং, বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। উদ্দেশ্যে ছিল রুশব বিদেশ সচিবের সঙ্গে পুতুলের কী কথা হয়েছে, সেটা হাসিনাকে অবগত করানো। কবে গিয়েছিলেন? পুতিনের দিল্লি আসার ঠিক দুদিন আগে। পুতিনের দিল্লি সফরের সময় অসমর্থিত সূত্রে পাওয়া খবর অনুসারে, পালাম এয়ারবেসে যাওয়ার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন। আর ওই গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পুতিন শুধু দেখা করেননি। রূপপুর পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে হাসিনার সঙ্গে মত বিনিময় করেন।
গণমাধ্যমের তরফে বলা হচ্ছে, রূপপুর পরমাণুকেন্দ্রে রুবল ঢেলেছেন পুতিন। কাজ ৯০ শতাংশ হয়েছে। বাকি ১০ শতাংশ কাজ এখনও বাকি রয়েছে। পুতিন হাসিনাকে জানিয়েছে, ওই ১০ শতাংশ কাজ শেষ না হলে চুল্লি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, রাশিয়া বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্য তার লভ্যাংশ ঘরে তুলতে পারছে না। ওই পরমাণু কেন্দ্রের বাকি ১০ শতাংশ কাজ তখনও সম্ভব হবে যদি বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসে। তার জন্য রাশিয়া ‘মাঠে নেমে’ খেলবে।
এই মাঠে নেমে খেলার মধ্য দিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন হাসিনাকে যে কী বার্তা দিলেন, তা সহজেই অনুমেয়। ঘুরিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, যে বাংলাদেশের মসনদে যাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা ফিরতে পারেন, সেটা তার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। এই বৈঠক থেকে আরও একটি বার্তা উঠে আসছে। সেটা হল রাশিয়া চাইছে না ইউনূস ক্ষমতায় টিকে থাকুক। তাহলে বাংলাদেশে চিনের প্রভাব আরও বাড়বে। একই চিন্তা কিন্তু সাউথব্লকেরও।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post