নারদ নারদ।
পদ্মাপারে শুরু হয়েছে কাদাছোঁড়াছুঁড়ি। আর চুপ করে সেটা তা়ড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে আওয়ামী লিগ এবং তাদের সমর্থকেরা। কাদাছোঁড়াছুড়ি শুরু হয়েছে জামায়াত এবং বিএনপির। গোলটা অবশ্যা বাঁধিয়েছেন তারেক নিজে। কারণ, তিনি বলেছিলেন মাকে দেখতে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান। কিন্তু যখন বুঝলেন তদারকি সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দেবে না, তখন তিনি ব্যাকফুটে চলে গেলেন। দলের তরফ থেকে বলা হল, তারেক কখন দেশে ফিরবেন সেটা তাঁর ওপর ছেড়ে দেওয়া ভালো। ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন জামায়াত।
দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘যারা ১৮ কোটি মানুষকে দেশে ফেলে বিদেশে অবস্থান করছেন তারা দেশপ্রেমিক হতে পারে না। জামায়াতের নেতারা বিদেশ থেকে এসে ফাঁসির মঞ্চে চড়েছেন। তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। অনেক নেতা বিদেশে আছেন। তারা দেশে আসার সাহস দেখাচ্ছেন না। কারণ, ইংল্যান্ডের নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাগরিকত্ব ছেড়ে দিয়ে দেশে আসতে হবে। ভয় পাচ্ছেন নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলাম। যদি দেশে এসে প্রধানমন্ত্রী হতে নাই পারলাম। একূল ওকূল দুই কূলই যাবে। ’
এখানেই শেষ নয়। আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের দেশটা গরিব নয়, সম্পদশালী। চরিত্রবান নেতার অভাব। সে কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচাল হয়ে হয়েছে। আমি ফাঁসির আসামী। জুলাই গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলনের ফলে মুক্ত হয়েছি। অনেকেই বলেন জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি করবে না তার প্রমাণ কী? বিগত দিনে আমাদের দলের দুই মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন। সেখানে সবাই খুঁজেও দুর্নীতি বের করতে পারেনি। আমরা ক্ষমতায় গেলে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বেকারত্ব দূর করব। দেশে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা জাকাত আদায় করা সম্ভব।’
আজহার ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমরা অমুসলিমদের মুসলিম বানাব। আপনারা দেখেছেন আওয়ামী লীগের আমলে মন্দিরে হামলা করে জামায়াত ও শিবিরকে দায়ী করা হয়েছে। অথচ গত দুই বছরে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মন্দির পাহারা দিয়েছেন। সারা দেশে এখন দাড়িপাল্লার জোয়ার উঠেছে। এই জোয়ারে ভীত হয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করছে একটি দল। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, আমরা কারও ওপর হামলা করব না। তবে কেউ হামলা করতে আসলে দুই হাত নিয়ে যেতে পারবে না। এবার আপনারা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবেন। জনগণের ভোট তার পছন্দের প্রার্থীকে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে চাই আমরা। এই সুযোগ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।’
এই নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন তারেক রহমান। ভার্চুয়ালি দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, ‘কিছু মানুষ ও গোষ্ঠীর তরফে ইদানি কিছু জায়গায় কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলতে শোনা যাচ্ছে – অমুককে দেখলাম (ক্ষমতায়)। তমুককে দেখলাম। এবার অমুককে দেখুন। এই যাদের কথা বলা হচ্ছে, তাদেরকে দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে। ’
রবিবার বিকেলে বিএনপি দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনে তারেক এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যের নিশানায় যে জামায়াত, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ জামায়াতের আজহারুল ইসলামের মন্তব্যের পরেই কিন্তু তারেকের মুখ থেকে এই কথা শোনা গেল। তারেক আরও বলেন, ‘এই যাদেরকে কেউ কেউ বলে যে একবার দেখুন না এদেরকে। তাদের দেশের মানুষ একাত্তর সালেই দেখেছে। তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি। তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা-বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুঠ করেছিল। এই কথাটি আমাদের মনে রাখতে হবে। ’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post