অসুস্থ বেগম। অসুস্থতা এতটাই যে দলের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে লন্ডনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থাতেও কিন্তু তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সামিল হয়েছে। দলের তরফে প্রথমে নভেম্বর মাসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় তারা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। প্রথম ধাপে প্রকাশিত হয়েছিল ২৩৭ আসনে প্রার্থী তালিকা। আর বৃহস্পতিবার আরও ৩৬ টি আসনে তারা তাদের প্রার্থী নাম ঘোষণা করেছে। যা থেকে স্পষ্ট যে দল নির্বাচনী তৎপরতা সচল রাখার পক্ষপাতী।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ রাজধানীর গুলশানে দলনেত্রীর কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। আসনগুলি হল ঠাকুরগাঁও ২, দিনাজপুর ৫, নওগাঁ ৫, নাটোর ৩, সিরাজগঞ্জ ১, যশোর ৫, নড়াইল ২, খুলনা ১, পটুয়াখালি ২, বরিশাল ৩, ঝালকাঠি ১, টাঙ্গাইল ৫, ময়মনসিংহ ৪, কিশোরগঞ্জ ১, কিশোরগঞ্জ ৫ মানিগকগঞ্জ ১, মুন্সিগঞ্জ ৩ ঢাকা ৭, ঢাকা ৯, ১০, ১৮, গাজিপুর ১, রাজবাড়ি ২ , ফরিদপুর ১, মাদারীপুর ১ এবং ২, সুনামগঞ্জ ২ এবং ৪, সিলেট ৪, হবিবগঞ্জ ১, কুমিল্লা ২, চট্টগ্রাম ৩, ৬, ৯ এবং ১৫ ও কক্সবাজার ২।
সাংবাদিক সম্মেলনে আলমগীর বলেন, ‘যে সব আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি, সেই সব আসনগুলি শরিকদলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। যে সব আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সব আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।’ তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু থেকে নির্বাচন চেয়েছি। আমরা নির্বাচন করব। নির্বাচন করতেই হবে। এটা আমাদের দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে ৩৬টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হল। গত অগাস্টে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পেয়ে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল বিএনপি।
দলের এক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, নেত্রীর মারাত্মক অসুস্থতার খবরে, গোটা দল উৎকণ্ঠিত। অনেক নেতা হাসপাতালে রয়েছেন। তাই, প্রচার সেভাবে করা যাচ্ছে না। কিন্তু নতুন প্রার্থী ঘোষণা করে একটাই বার্তা দেওয়া হচ্ছে। সেই বার্তা হল আমাদের আবার মাঠে ফিরতে হবে। দলনেত্রী অসুস্থ থাকার পরেও বিএনপি কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখার পক্ষপাতী নয়।
অন্যদিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্বধান আট দলের জোট ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে বড় বড় সমাবেশ করেছে। শনিবার সিলেটে তারা একটি সমাবেশের ডাক দিয়েছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের তফশিল ঘোষণা করার কথা থাকলেও দ্বিতীয় সপ্তাহ গড়াতে শুরু করেছে। তফশিল ঘোষণার ব্যাপারে তাদের কোনও উচ্চবাচ্য করতে দেখা যাচ্ছে না।
তবে এনসিপি কিন্তু যথাসময়ে নির্বাচনের পক্ষপাতি নয়। তারা চাইছে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে। গত ৫ ডিসেম্বর তারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। তিনি বলেন, সব দলের যথাযথ রাজনৈতিক প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া উচিত।
গত শুক্রবার ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত এক আলোচনা সভায় যোগ দেন নাহিদ। সেখানে সাংবাদকিদের এক প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, ‘যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং একটা তারিখ ঠিক হয়েছে, সে অনুযায়ী তফশিল আমরা জানি ৬০ দিন বা ৪৫ দিন সে অনুযায়ী দিতে হয়। সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তফশিল হয়তো দুই দিন আগে বা পরে দেবে। ’












Discussion about this post