আমেরিকা ভারত নিয়ে অনেক চাপান উতোর এবং অনেক ঘটনা। সবই ভূ-রাজনৈতিক, তবে আমেরিকার অনেক কঠিন কঠিন শত্রু থাকতেও কেন ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কটি এত আলোচিত সেই বিষয়টি নিয়ে একটু বলে নিয়ে, অন্য বিষয়গুলিতে আসি। এই মহুর্তে ভারত আমেরিকার মধ্যে ভেদ বা বিভেদ নেই। বিভেদ হল মোদি বনাম ট্রাম্প। একদিকে যখন মার্কিন কংগ্রেসে, মার্কিন জাতীয় নিরপত্তা কৌশল প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে বলা হচ্ছে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়োন করতে হবে। ভারতের চোখ দিয়ে এশিয়াকে দেখতে হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত যে ধরণের নির্বাচন চাইছে সেই পথেই আমেরিকাকে এগোতে হবে, আবার অন্য দিকে আমেরিকাতে ভারতের চাল রপ্তানিতে আবার নতুন করে ট্রারিফ চাপানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প। আর এখানে বিরোধ বা বিভেদ ভারত আমেরিকার নয়, বিভেদ হল মোদি বনাম ট্রাম্পের। ট্রাম্পের বার বার মনে হচ্ছে কেউ তার মুখ থেকে মালপোয়া ছিনিয়ে নিচ্ছে। তার পদ প্রতিষ্ঠাকে চ্যালেঞ্জ করছে। আর সেই ব্যক্তিটি হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই মহুর্তে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে তার প্রতিদ্বন্দী মনে করছেন। তিনি ভারতের চালের উপর ট্র্যারিফ ঘোষনা করার আগের দিনই জানা গিয়েছিল যে, পুতিনের পর ভারতে আসছেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি জেলেনস্কি। আর এই ঘটনাটাই মেনে নিতে পারছেন না ট্রাম্প। এর আগে পুতিন এবং জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের অনেক বৈঠক হয়েছে।যুদ্ধ নিয়ে কোন সমাধান হয়নি। আচ্ছা, ভেবে দেখুন তো, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর জন্য বা কোন সমাধানের জন্য, রাশিয়া ইউক্রেন বিশ্বের কোন কোন দেশের কাছে যেতে পারে, তারা দুটি দেশের কাছেই যেতে পার, এক আমেরিকা আর দুই হল ভারত। আর ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির ভারত আসার খবরে খেপেছেন ট্রাম্প সাহেব। তিনি ভাবছেন ভারত কোন মধ্যস্থতা করে যদি যুদ্ধ থামিয়ে দেয়, তাহলে তার শান্তি দুতের নোবেলটি গেল। তাই তিনি ভারতকে আমেরিকার প্রতিদ্বন্দী ভাবছেন। না হলে ভারত সারা বিশ্বে যে পরিমান চাল রপ্তানি করে তার মাত্র ৫ পারসেন্ট চাল রপ্তানি করে আমেরিকাতে। সেই রপ্তানি যদি কিছুটা কমিয়ে দিয়ে অন্য কোন দেশে বাড়িয়ে দেয়, তাহলে ভারতের কিছু এসে যাবে না। উল্টে আমেরিকার চালের দাম আরও বাড়বে, আর সেক্ষেত্রে আমেরিকাতে আবার বিক্ষোভ হবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তিনি দেশের জনগনকে বোঝাতে চাইচেন যে তিনি ট্রারিফ চাপিয়ে দেশের অনেক আয় বৃদ্ধি করেছেন। কিন্তু সেটি কি আসলে সত্যি। ট্রারিফ চাপানোর মানে কি। যে প্রোডাক্ট আমেরিকার জনগন কিনছে তাদেরকেই তো বেশী মূল্য দিতে হচ্ছে, ভারত বা ভারতের কোম্পানী তো তা দিচ্ছে না। অন্যদিকে মার্কিন জাতীয় নিরপত্তা কৌশল প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।আরসেই লক্ষ্যে বেইজিংয়ের মোকাবিলায় ভারসাম্য তৈরির জন্য এশীয় মিত্রদের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে আমেরিকা, যেখানে ভারতকে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক মহাসাগরীয় সুরক্ষায় নয়াদিল্লিকে অবদান রাখতে উৎসাহিত করতে হলে,আমেরিকাকে অবশ্যই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য সম্পর্ক উন্নত করতে হবে। ফলে ভারতের কাছে কি চাইছে আমেরিকার পাগল রাষ্ট্রপতি তা বোঝা মুশকিল।
আমেরিকার মত দেশে ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতি হওয়াটা যে,সে দেশের জন্য কতটা ঠিক বা ভুল তা বলতে পারবে আমেরিকাবাসী। তবে একটি ব্যক্তি যখন দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় তখন নিশ্চয় তার মধ্যে কোন একটা ব্যাপারতো আছে। যদিও তিনি পর পর দু বার জিততে পারেন নি। এমনকি দ্বিতীয়বার তার জয়টি কোন ম্যজিকের থেকে কম নয়। তারপরও বলতে হয় তিনি রজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কম, ব্যবসায়ী বেশী। যার মধ্যে আমি সব করছি এটা প্রামন করা চাহিদা এবং ইগো অনেক ক্ষেত্রে উন্ততির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, নইলে, জয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন ট্রাম্পকে নিজের দেশে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post