আগেই বলা হয়েছিল পুতিনের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে সব থেকে বেশি আগ্রহ ছিল আমেরিকার। রুশ প্রেসিডেন্টের দিল্লির পালাম এয়ারবেসে অবতরণ করা থেকে শুরু করে হায়দরাবাদ হাউজে বৈঠক, পরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি – সব বিষয়ে কড়া নজর ছিল হোয়াইট হাউজের। তার কারণও ছিল। মার্কিন শুল্ক নিয়ে দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঠাণ্ডা যুদ্ধ। এই শুল্ক দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। ওয়াশিংটের এই চড়া হারে শুল্ক আরোপ দিল্লি যে মেনে নিতে পারেনি, সেটা আকারে-ইঙ্গিতে ওয়াশিংটনকে বুঝিয়ে দেয় সাউথব্লক। আর সেই অসন্তোষের অঙ্গ হিসেবে সাউথব্লক সিদ্ধান্ত নেয়, রাশিয়া থেকে অশোধিত তেল কেনার। তাতে আরও চটে যান মি. ডন। এই আবহে ভারতে পদার্পণ করে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকা যে উদ্বেগে থাকবে, সেটা প্রত্যাশিতই ছিল। তাই, পুতিন পালাম এয়ারবেস ছাড়তেই ওয়াশিংটনে শুরু হয় কূটনৈতিক তৎপরতা। উদ্দেশ্যে দিল্লির মন পাওয়া।
পুতিনের বিমান যখন মাঝ আকাশে সেই সময় আমেরিকা থেকে দিল্লির উদ্দেশ্য রওনা করিয়ে দেওয়া হয় একদল উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে। বাণিজ্যশুল্কের আলোচনা চূড়ান্ত করতেই তাঁদের দিল্লি পাঠিয়ে দেওযা হয়। সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যুচুক্তি সই হয়ে যাবে। আমেরিকার তরফে প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার বিদেশ দফতরের আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার। মার্কিন দূতাবাস সূত্রে খবর, আগামী বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ভারতে থাকবেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য-সহ একাধিক বিষয়ে তিনি আলোচনা করবেন। চলতি সপ্তাহেই মার্কিন বাণিজ্যপ্রতিনিধি রিক সুইজারেরও ভারতে আসার কথা। তখনই ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি চূডা়ন্ত রূপ পাবে। দিল্লিতে এই নিয়ে একটা আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়েছে।
দিল্লিতে আরও একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠক হল সন্ত্রাস দমন বিরোধী বৈঠক। বৈঠকের শিরোনাম ‘টুয়েন্টি ফাস্ট ইন্ডিয়া-ইউ এস জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড দ্য সেভেনথ ডেসিগনেশনস ডায়লগ। ’ বৈঠক ছিল দু’ দিনের। ভারতের হয়ে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশ মন্ত্রকের সন্ত্রাসদমন শাখার যুগ্ম সচিব ড. বিনোদ ভাবে। আমেরিকার হয়ে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন তাদের ‘ব্যুরো অব কাউন্টার টেররিজম ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’-য়ের সিনিয়র ব্যুরো কর্তা মনিকা জ্যাকবসন। আমেরিকার তরফে ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া পাক মদতে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসবাদী হামলার কড়া নিন্দা করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কাজের জন্য ড্রোন এবং আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিক্যাল ব্যবহারে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন করে উদ্বেগ সন্ত্রাসীকাজে এ আই প্রযুক্তির ব্যবহার। দু’ দিনের বৈঠকে দু’ পক্ষই সন্ত্রাসবাদের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
দিল্লির এই বৈঠকের পর রীতিমতো কাঁপছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ। প্রথমত, তারা বুঝতে পেরেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ নিরসনে আমেরিকা যে ভারতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাছাড়া চড়া হারে শুল্ক আরোপের ফলে দিল্লি একেবারেই খুশি নয়। সে কারণে তাদের মন পেতে আমেরিকা এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে দ্রুত দিল্লি পাঠাবে বলে মনস্থির করে। এই ক্ষেত্রেও আমেরিকা ভারতকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। সব থেকে যে বিষয়টিকে আমেরিকা অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তা হল দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা। এই অঞ্চলটি যাতে কোনওভাবে সন্ত্রাসের বধ্যভূমি না হয়ে ওঠে, সে দিকে কড়া নজর রয়েছে আমেরিকার। তাই, ‘টুয়েন্টি ফাস্ট ইন্ডিয়া-ইউএস জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড দ্য সেভেনথ ডেসিগনেশনস ডায়লগ’-য়ের বৈঠকে আমেরিকা পাঠিয়েছে মনিকা জ্যাকবসনের মতো একজন দুঁদে কর্তাকে। ভারত যেমন চাইছে, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মাটি থেকে জঙ্গি কার্যকলাপে চিরকালের জন্য লাগাম পরাতে, একই ইচ্ছা আমেরিকারও।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post