বাংলাদেশে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট না বাজলেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। একদিকে দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মাহফুজ আলম পদত্যাগ করলেন। তাদের পদত্যাগের বিষয় নিয়ে কয়েক মাস যাবৎ নানা আলোচনা চলেছে। শেষমেশ তার অবসান ঘটল। এরমধ্যে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলছেন, ভারতের সহযোগিতায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে চান না। আসলে কি বোঝাতে চাইলেন তিনি? ভারত সহযোগিতা করতে চেয়েছে? তাও আবার এনসিপিকে? কার মাধ্যমে ভারত সহযোগিতা করতে চাইল তাদের? এটা কি আদেও বিশ্বাসযোগ্য? জামাত, বিএনপিকে বাদ দিয়ে হঠাৎ ভারত এনসিপিকে সাহায্য করতে যাবেই বা কেন? এমনকি এই প্রশ্নও উঠছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমস্ত সখ্যতা ঝেড়ে ফেলে হঠাৎ এনসিপিকে কেন কাছে টানবে ভারত?
এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলছেন, ভারতের কনসার্ন নিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। এখানেই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি তাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছে?
মঙ্গলবার ২০২৪ সালের জুলাই আগস্ট গণ অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দী পেশ করার পর ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এমন কথা বলেন তিনি।
এমনকি হাসনাত বলেন, নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে, ব্যুরোক্রেসিকে নিয়ন্ত্রণ করার মধ্য দিয়ে পাশের দেশ ভারতের কনসার্ট নিয়ে আমরা কোনও ক্ষমতায় যেতে চাই না। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, আপনারা কি ক্ষমতায় যেতে চাইছেন না? তখন হাসনাত বলেন, আমরা জনগণকে নিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই। কোনও আনহোলি নেক্সাসকে, ম্যানেজ করে আমরা কোনও কন্ট্রোলডভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় না। এখানেই থেমে থাকেননি জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণ যদি আমাদেরকে ম্যান্ডেট দেয়, জনগণকে যদি মনে করে আমরা ক্ষমতায় যাবার উপযোগী আমরা যেতে চাই। প্রশ্ন উঠছে, কিসের ভিত্তিতে তিনি এমন কথা বললেন? তিনি যে বারবার উল্লেখ করার চেষ্টা করছেন, ভারতের সহযোগিতায় তিনি ক্ষমতায় যেতে চান না, তাতে দুটি তত্ত্ব উঠে আসছে। একটি হল, আদেও পাশের একটি রাষ্ট্র অন্য একটি দেশের অন্দরে নির্বাচনে ক্ষমতায় জেতা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? আরও একটি বিষয় হল, এনসিপি ছাড়া যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদেরও বিতর্কিত করতে চাইছেন এনসিপি নেতা। কারণ তাদের বলা হবে, ভারতের সহযোগিতায় তারা ক্ষমতায় এসেছে। ফলে সবমিলিয়ে যে মন্তব্য করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ, তাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে জবানবন্দির বিষয়ে ব্রিফিং এ হাসনাত বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই সারা বাংলাদেশের বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন ছাত্র জনতা। ঐদিন রংপুরে আবু সাইডের গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়া জানাতে ১৭ই জুলাই আমরা গায়েবানা জানাজা করতে গেলে চাপ দেয় গোয়েন্দা সংস্থা। সেই রাতেই আমাদের বাসা থেকে তুলে নিতে পদ্মায় নেওয়া হয়। তিনি বলেন, কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য আমাদের নানাভাবে বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু আমরা মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক প্রত্যাখ্যান করি।b এক ঘন্টা পর আমাদের সামনে দিয়ে এই তিনজন মন্ত্রী বের হয়ে যান। আমরা কোনও বৈঠক করিনি। তার এই মন্তব্যগুলির পর তুমুল আলোচনা চলছে বাংলাদেশের অন্দরে। চাপানোউত্তর শুরু হয়েছে রাজনীতিতে। এখন দেখার, এরপর কি পরিস্থিতি তৈরি হয়!
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post