গত বছর জুলাই-অগাস্ট গণ অভ্যুত্থান ও ছাত্র আন্দোলনের মুখে পরে ক্ষমতাচুত্য হয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। আবারও বাংলাদেশে ফিরবেন তিনি। হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার মহম্মদ ইউনুসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, আমি ইউনূসের মৃত্যুদণ্ড পরোয়া করিনা। সাহস থাকলে প্লেন পাঠান আমি বাংলাদেশে ফিরতে প্রস্তুত। আমি দেখতে চাই কার দৌড় কতদূর। আমি দেখতে চাই ইউনূসের ফাঁসির দড়ি আর বন্দুকের গুলি কতটা শক্তিশালী।
গণ আন্দোলনের পিছনের আসল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে খুন করা। খুনের নীল নকশাও কোটি টাকা ব্যায় করে তৈরী করে ফেলা হয়েছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার হাসিনা আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাড়িতে ও হাসিনার বাসভবনে প্রতিদিন বৈঠক করতেন। কিন্তু সেই বৈঠক হত এমন কায়দায় যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একবারের জন্য বুঝতে দেওয়া হয়নি যে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যে হাসিনাকে খুন করা। ৪ ই অগাস্ট পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে কথা হয় হাসিনার। তখনও হাসিনা জানতেন না পরের দিন তাকে তার নিজের দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হবে।
৫ ই অগাস্ট ঘটনার দিন জনতা যখন গণভবনের দিকে এগিয়ে আসার সময় পুলিশ গণভবনের সামনে ব্যারিকেড দিতে শুরু করে। সেনাপ্রধান ওয়াকার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপাড়া থেকে এক শীর্ষসেনাকর্তাকে গণভবনের দিকে পাঠিয়ে দেন। ওই সেনাকর্তা পুলিশের দেওয়া ব্যারিকেড সরাতে শুরু করেন। সেনাবাহিনী ব্যারিকেড সরাতে শুরু করলে সেই সময় পুলিশ বাধ্য হয়ে সেখান থেকে সরে যায়। ফলে, গণভবনের যাওয়ার রাস্তা ক্রমশ প্রশস্ত হতে শুরু করে। সেই সময় ওয়াকার অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সাথে বৈঠক করছিলেন সেনা ভবনে। এরপরই গণভবনে গিয়ে ওয়াকার হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলার। এমনকি হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্ব তিনি নিজে নিশ্চিত করবেন। হাসিনা পরিষ্কার তার প্রস্তাবে না করে দেন। হাসিনা ধরেই নিয়েছিলেন, গণভবনে ছাত্রনেতাদের ডাকলে অথবা গণভবন থেকে বেরিয়ে তিনি ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কথা বললে তিনি খুন হয়ে যেতেন। উত্তেজিত জনতা তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকলেও হাসিনার বোন রেহানা হাসিনাকে স্থান পরিবর্তনের জন্য জোর করতে থাকলেও দেশ ছাড়তে রাজি ছিলেন না হাসিনা। সে সময় ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের কাছ থেকে হাসিনার কাছে ফোন গিয়েছিল। বলা হয়েছিল, তার হাতে আর মাত্র এক ঘণ্টা সময় রয়েছে। তিনি যেন দ্রুত সেখান থেকে নিরাপদস্থানে চলে যান।
ভয়ঙ্কর ওই পরিস্থিতিতে হাসিনা দিল্লিতে ফোন করেন। তারপরেই বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর তরফে ভারতে শেখ হাসিনার বিমানের অবতরণের অনুমতি চেয়ে দিল্লিতে ভারতের এয়ার ফোর্স কামান্ডের কাছে ফোন করে বলা হয়, ভারত যেন বিশেষ বিমান পাঠিয়ে ঢাকা থেকে হাসিনাকে নিয়ে যায় ভারতে। ভারত সরাসরি সেই অনুরোধ খারিজ করে জানায়, ভারত কোনও বিমান পাঠাবে না। শেখ হাসিনাকে ভারতে আসতে গেলে তাকে বাংলাদেশের বিমানে চেপেই আসতে হবে। এরপর ডোভালের পরামর্শ মতো হাসিনা ২০ মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত গণভবন ছাড়েন। তিনি এবং তার বোন শেখ রেহানা বাংলাদেশের সামরিক বিমান CJ130 তে করে ভারতে চলে আসেন। বিমানবন্দরে হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান অজিত ডোভাল।
এখন দেখার হাসিনার ছোড়া এই ওপেন চ্যালেঞ্জ কতটা গ্রহণ করতে পারেন ইউনুস।












Discussion about this post