গত বছর ৫ই অগাষ্ট থেকে ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। দু’ বার বাংলাদেশ ফেরত চাইলেও কূটনৈতিক ভাষায় ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে, হাসিনাকে ফেরত দেবে না। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়ে দিয়েছেন, শেখ হাসিনার ফেরা না ফেরাটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এরমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যে কথা বলেছেন, তাতে দেশের অন্দরে নানা মন্তব্য শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত না দিলে আমাদের কিছুই করার নেই। এতটা অসহায় উক্তি এর আগে কখনও শোনা যায়নি। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এরমধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফর করে গিয়েছেন। এটা নিয়ে অনেকে দুইয়ে দুইয়ে চার করার চেষ্টা করেছন। তবে কি শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে রাশিয়ার সবুজ সংকেত রয়েছে? যে কারণে ভারত স্পষ্ট করে হাসিনার না ফেরার বিষয়ে জানিয়ে দিল?
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে পুরোপুরী কি ব্যর্থ হয়ে গেলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা? সম্প্রতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ভারত সফর করেছেন। ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। এরপর বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাতারের দোহা যান। সেখানে কাতারের মধ্যস্থতায় ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের বৈঠক হয়। তাহলে কি সেখানে এমন কিছু ঘটেছে, যেটা নিয়ে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা। এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বিষয়টি তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কি? তখন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা কি করতে পারি, বলেন তো? তিনি বলেন, করণীয় তেমন কিছু আসলে নেই। কারণ ভারতকে রাজি হতে হবে অথবা চাইতে হবে তাঁকে ফেরত পাঠাতে। ভারত রাজি না হলে তবে কি কিছু করার নেই? তখন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, রাজি না হলে আসলে তো করার কিছু নেই। আমরা রাজি করানোর চেষ্টা করতে পারি। এইটুকুই। এর চেয়ে বেশি কিছু করতে পারি না। এখানেই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তবে কি বাংলাদেশের সরকার কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হল? কিছুদিন আগে দেখা যাচ্ছিল, বাংলাদেশের ছাত্র উপদেষ্টা থেকে সরকারে থাকা একাধিক উপদেষ্টা ভারতকে চোখ রাঙাচ্ছিল। এমনকি ভারতের একাধিক অঞ্চল দখলের হুমকি দিচ্ছিল। যদিও দুই ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করেছেন। মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া..যারা ভারত নিয়ে একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এদিকে শোনা যাচ্ছে, বাংলাদেশ আমদানি, রফতানিতে যে সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছে তাতে বাংলাদেশ পিছু হঠতে শুরু করেছে। অন্তত বাংলাদেশের পরিস্থিতি দেখে অনেকে সেটাই বলার চেষ্টা করছেন। কিছুদিন আগে ভুটানের পণ্য আটকে রেখেছিল ভারত। পরে অনুমতি দেয়। সেক্ষেত্রে বহু সমস্যা তৈরি হয়। ভারত ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তি বাতিল করে দেওয়াতে এমনিতেই বাংলাদেশ চাপে রয়েছে। তবে কি এইসবের মধ্যে দিয়েই সুর নরম করছে অন্তবর্তীকালীন সরকার? যদিও পরে বোঝা যাবে, আসলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে!












Discussion about this post